মাগুরা সংবাদদাতা :
ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বন্দির চাপ সামলেও বয়স্ক বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মাগুরা জেলা কারাগার। প্রথমবারের মতো কারাগারের অভ্যন্তরে পঞ্চাশোর্ধ্ব বন্দিদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচির আয়োজন করে কারা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রায় ৪৫ জন প্রবীণ বন্দি অংশ নেন। তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে র্যান্ডম ব্লাড সুগার (আরবিএস), লিপিড প্রোফাইল, সিরাম ক্রিয়েটিনিন এবং ইসিজিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডা. শামীম কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির। এছাড়া কারা হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. এজাজ আহম্মেদ রোচি, ডিপ্লোমা নার্স বদিউজ্জামান এবং কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার।
কারা সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলা কারাগারের ধারণক্ষমতা ১৭২ জন হলেও বর্তমানে সেখানে চার শতাধিক বন্দি অবস্থান করছেন। এমন চাপের মধ্যেও বয়স্ক বন্দিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এনে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৯৫ বছর বয়সী বন্দি মোহাম্মদ জলিল মোল্লা জানান, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা আগে পাননি। নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত চালুর দাবি জানান।
একইভাবে ৭০ বছর বয়সী বন্দি সাইফুল ইসলাম বলেন, কারাগারের ভেতরে এমন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া তাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। এতে বন্দিরা নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের অধিকাংশ কারাগারেই প্রবীণ বন্দিদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা সীমিত। সে বিবেচনায় মাগুরা জেলা কারাগারের এই উদ্যোগ অন্য কারাগারগুলোর জন্যও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হলে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কারাগারে অসুস্থতা ও অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে কারাগারে পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪৫ জন বন্দি রয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি তাদের আইনি ও সাংবিধানিক অধিকারও। তিনি জানান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন-এর নির্দেশনায় এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

