কপিলমুনি সংবাদদাতা
দু’পক্ষের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩০ বছর পর বন্ধ হওয়ার পথে পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী গদাইপুর কুরবানীর পশুর হাট। নিজেদের প্রভাব বিস্তারে ও পশু হাটের খাজনা আদায়ের নামে অর্থ বাণিজ্যের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, গুটি কয়েক ব্যক্তির কারণে বিভিন্ন এলাকার গরুর খামারি, ব্যাপারি, ফড়িয়া, খুচরা গরু লালন পালন কারী ও ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিগত সময়ে কুরবানির ঈদের ১০-১৫ দিন আগেই পশু বিকিকিনি শুরু হয়ে যেতো। সকাল ১০টা থেকে রাত অবধি কুরবানির পশুর হাট লোক ও পশুতে জমজমাট থাকতো।
কিন্তু চলতি বছর ফাঁকা অবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গদাইপুরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক বাবর আলী গোলদার বলেন, কোন প্রকার ঝুট ঝামেলা ও চাঁদাবাজী ছাড়াই গদাইপুর হাটে অসখ্য গরু ছাগল বিক্রি হতো। এ হাটের একটা ঐতিহ্য ছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মিলন মেলা বসতো এখানে। খুলনা-পাইকগাছা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত বড় কোরবানির পশুর হাট এই গদাইপুর।
জানা গেছে, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় দুটি পক্ষ হাটের ইজারা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে আবেদন করেন।
দু’পক্ষই অনড় থাকায় বিষয়টি জেলা প্রশাসক দপ্তর পর্যন্ত গড়ায়। শেষমেষ জেলা প্রশাসক ইজারা বন্ধ করে দেয়ায় এ হাটে পশু বিকিকিন বন্ধ হয়ে যায়।
যদিও উপজেলার চাঁদখালী, কাশিমনগর বাঁকা ও আগড়ঘাটা নামক স্থানে পশুর হাট বসছে। যা উপজেলার তিনদিকের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এর ফলে ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। এ বিষয়ে পূর্বের ইজারাদার সাবেক ইউপি সদস্য জবেদ আলী গাজী বলেন, আমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ কোরবানীর পশুর হাটটি ইজারা নিয়ে যে খাজনা আদায় করেছি তা স্থানীয় মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হচ্ছিল। একটি দুষ্ট চক্রের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে এবার হাট বন্ধ হয়ে গেল।
তবে আমি আশা করছি কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, হাট ইজারা দেয়ার এখতিয়ার জেলা প্রশাসক স্যারের। তিনি অনুমোদন দিলে হাট বসবে। না দিলে আমার কিছু করার নেই।

