রাজগঞ্জ সংবাদদাতা

মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের অঞ্চলে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার পল্লীর সদস্যরা। দিনভর লোহার টুং টাং শব্দে ভরা কামারদের ছোট্ট খুপরিগুলো।

উপজেলা নেংগুড়াহাট গৌরীপুর গ্রামের নির্মল কর্মকার, রত্নশাহাপুর গ্রামের সুব্রত কর্মকার, চালুয়াহাটি গ্রামের মহবাসু কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলারও সময় নেই কামার পাড়ার শিল্পীদের। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বটি, চাকু, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি তৈরি করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প কর্মকাজ।

নেংগুড়াহাট এলাকার কামার শিল্পি সুব্রত কর্মকার ও তার ভাই বলেন, এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আকর্ষণ হারাচ্ছে। হয়তোবা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না তবে কুরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই।

কামার শিল্পী দেবব্রত আরো বলেন, বংশ পরম্পরায় আমরা এই কাজ করে আসছি। আগে দেখতাম সারা বছর আমার বাব দাদারা এই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। কিন্তু এখন সারা বছর তেমন কোনো কাজ না থাকলেও কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা বেড়ে যায়।

নেংগুড়াহাট সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রায় শতাধিক কামার পরিবার খেয়ে না খেয়ে পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছে। সারা বছর অলস সময় পার করলেও কোরবানীর ঈদ আসলেই অধিক শ্রম দিয়ে বেশি আয়ের স্বপ্ন দেখে কামার পরিবারগুলো। কিন্তু কয়লা ও লোহার দাম বেশি হওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেস্তে যেতে বসেছে। দা, ছুরি, বটিসহ লোহার সরঞ্জামাদি তৈরিতে ব্যয় বেশি হলেও উপযুক্ত মূল্যে ক্রেতারা তা ক্রয় করবে কিনা তা নিয়ে কিছুটা চিন্তিত।

কামার শিল্পিরা বলেন, আমাদের বাপ-দাদার মূল পেশা ছিল এটা। বাপ দাদা মারা যাওয়ার পর আমরা এই পেশা ধরে রেখেছি। আগামী দিনে হয়ত আমাদের ছেলেরা এই পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু এখন যা অবস্থা তাতে করে সেটা হবে কিনা তা জানা নেই। তবে সরকারি ভাবে এবং এনজিওর মাধ্যমে আমাদের কামারদেরকে সুদ মুক্ত ঋণ দিলে পাইকারি মূল্যে উপকরণ কিনতে পারলে অবশ্যই এই দেশীয় কামার শিল্প পূর্বের ন্যায় ঘুরে দাঁড়াবে।

Share.
Exit mobile version