কাজী নূর
“শুক্রবার দেখে মাছ কিনছি অনেক, অনেক পদের মাছ। কিন্তু বাজারে আজ কাস্টমার নেই। বেচা বিক্রির যে অবস্থা তাতে লাভ তো দূরের কথা; আড়তে দেনা গুণতে হবে।”
শুক্রবার সকালে হতাশা প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন যশোরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন বড়বাজারের মাছ বিক্রেতা আজিজুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, “সবাই এখন ঈদের পোষাক আশাক, জুতা জামা নিয়ে ব্যস্ত। তাদের এখন মাছ কেনার টাকাও নেই, সময়ও নেই।
ঈদের পর ছাড়া মাছ বাজার চাঙ্গা হবে বলে মনে হয় না।” বিক্রেতা আজিজুল ইসলাম, রতন বিশ্বাস, আলমগীর হোসেন, সন্তোষ, জয়সহ আরো অনেকে একই সুরে কথা বলেন। গোটা বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে প্রকৃতপক্ষে মাছ বাজার ক্রেতা শূন্য। যদিও কিছু ক্রেতা আসছেন তারা ছোট মাছ যেমন, মায়া, বেলে, কাচকি ইত্যাদি কিনে ঘরে ফিরছেন। অনেক বিক্রেতাকে চুপচাপ বা মুঠোফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে আড়াই কেজি সাইজের রুই ৩২০ টাকা, তিন কেজি প্লাস সাইজের রুই ৪৫০ টাকা, চার কেজি প্লাস সাইজের কাতলা ৪৫০ টাকা, কই ২২০ টাকা, মায়া ৩৫০ টাকা, পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, জিয়েল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাটা ১৮০ টাকা, ফলই ৩৫০ টাকা, বাইন ৮০০ টাকা, ভেটকি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, টেংরা ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা, শোল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, নাইলোটিকা ২০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, বাজারে আজ মাছের সরবরাহ যেমন কম, ক্রেতার সমাগমও তেমন নেই। আবার মাছের দাম সামান্য বেশি।
মাছ কিনতে আসা শহরের মাওলানা মোহাম্মদ আলী সড়কের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, দুই পদের ছোট মাছ কিনেছি। দুদিন পরে ঈদ, মাংস খাবো। তাই অল্প মাছ কিনেছি।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা, সোনালি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, লেয়ার ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, মুরগির দাম আরো বৃদ্ধি পাবার আশংকা রয়েছে। কারন স্থানীয় খামারে মুরগি নেই। বাইরে থেকে মুরগি কিনতে হচ্ছে।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে মানভেদে কেজি প্রতি পটল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচা আম ৩০০ টাকা, সজনে ১২০ থেকে ২০০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বিটরুট ৪০ টাকা, ঝিঙে ১২০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, ব্রকোলি ১০০ টাকা, সবুজ শাক ৩০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কুমড়ো ৪০ টাকা, মানকচু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মিচুরি ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কুশি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৫০ টাকা, শিমের বীজ ১২০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মেটে আলু ৭০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া রেড কপি ৩০ টাকা পিস, চিনা লেবু ৩০ টাকা ও এলাচি লেবু ৪০ হালি বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা ইন্তাজ আলী বলেন, বেচা কেনা ভালো না। বাজারে তেমন একটা ক্রেতা নেই। ঈদের পর আবার বাজার সরগরম হবে বলে আশা করি।
বাজার করতে আসা ওষুধ কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ও হাসানুজ্জামান বলেন, বাজারে সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সজনের দাম একটু বেশি।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা, সরিষার তেল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, পাম তেল ১৭৯ টাকা কেজি, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ টাকা, মসুরি ডাল মানভেদে ৯০ থেকে ১৬০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, সাদা চিনি ১০০ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা, আলু ১৮ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, রসুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শুকনো মরিচ ৪০০ টাকা, আদা, ১৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। গোটা বাজার ঘুরে অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ একেবারে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে হিমু স্টোরের মালিক গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, খোলা তেল পাওয়া গেলেও কোম্পানির বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ নেই। অর্ডার দিলেও তারা মাল দেয় না। আশংকা প্রকাশ করে গোপাল ঘোষ আরো বলেন, মাল সরবরাহ না করার কারণ হচ্ছে কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিনের দাম বৃদ্ধি করার প্রাথমিক ফন্দি। এখন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সেই মাঠ প্রস্তুত করছে।
এছাড়া লাল ডিম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, সাদা ডিম ৩২ থেকে ৩৪ টাকা, দেশি ডিম ৬০ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে।
মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক শেখ কুদ্দুস আলী বলেন, একমাত্র ডিম এখন সস্তা। তবে ঈদের পর ডিমের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে বাসমতি ৮০ থেকে ৮৪ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা,
কাজললতা ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ৬৪ থেকে ৬৬ টাকা, লাল আমন ৬০ টাকা, নাজির শাইল ৭২ থেকে ৮০ টাকা, আটাশ ৫৬ থেকে ৫৮ টাকা বিক্রি হয়েছে।
নিউ মা কালী ভান্ডারের অভিজিৎ সাহা বলেন, চুপচাপ বসে আছি। বেচা বিক্রি একদম নেই। সবাই ব্যস্ত ঈদের পোশাক আশাক নিয়ে।
