মণিরামপুর সংবাদদাতা
এসএসসির এক অসুস্থ্য পরীক্ষার্থী যশোরের একটি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে মণিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌছাতে বিলম্ব হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি কেন্দ্র সচিব তছির উদ্দিন। এমন অভিযোগ করেছেন পাতন-জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী শরিফা খাতুন। কেন্দ্র সচিবের এমন অমানবিক খবর প্রচার হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পাতন-জুড়ানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন জানান, তার বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী (ক্যাজুয়াল) শরিফা খাতুন রক্তশূন্যতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। রোববার ছিল সাধারন গণিত পরীক্ষা। শরিফার সিট পড়ে সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৫০১ নং কক্ষে।
কিন্তু রোববার সকালে যশোরের ওই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছাতে শরিফার একটু দেরি হয়। ফলে তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি। ৫০১ নং কক্ষে পরিদর্শক ছিলেন গোপালপুর স্কুল অ্যাণ্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান ও বাকোশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিথিকা রানী।
কক্ষ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সকাল ১০ টায় শুরু হয়ে সাধারণ গণিতের ৩০ মার্কের এমসিকিউ পর্বের পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে শরিফা খাতুন কক্ষে আসেন। বিষয়টি কেন্দ্র সচিব মণিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তছির উদ্দিনকে অবহিত করা হলে তিনি শরিফাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে অনুমতি দেননি।
শরিফা জানান, মানবিক কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য অনেক কাকুতি করা হলেও কেন্দ্র সচিবের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে পরীক্ষা না দিয়েই কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। পাতন-জুড়ানপুর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাতা দেয়া হয় পৌনে দশটায়।
কিন্তু ওই সময় শরিফার অনুপস্থিতি সম্পর্কে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। কেন্দ্র সচিব তছির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিক যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও ইউএনওকে অবহিত করা হয়। কিন্তু সন্তোষজনক কোন সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় শরিফাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি কেন্দ্র সচিবকে মানবিক দিক বিবেচনা করে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। তবে স্থানীয় অনেকের অভিযোগ তছির উদ্দিন শিক্ষক হিসাবে শিক্ষার্থীবান্ধব নন।
