এম আই মুকুল, জীবননগর
জীবননগর উপজেলায় দিগন্ত জুড়ে ফসলের মাঠ ভরে আছে পাঁকা ধানে। বোরো ধান পেকে সোনালী রং ধারন করেছে। ধানের ফলন ভালো হলেও বৈরি আবহাওয়ায় পাঁকা ধান কাটা, মাড়ায় ও শুকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। মাঠের অধিকাংশ ধান কাটার উপযুক্ত হলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না কৃষক। যেসব কৃষক ধান কেটে রেখেছেন তারাও আছেন দুশ্চিন্তায়।

জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নে সম্প্রতি ঝড়-বৃষ্টিতে বোরোধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরজমিনে মাঠে গিয়ে দেখা গেছে ঝড়ে পাঁকা ধান গাছ মাটিতে ন্যুয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে কেটে রাখা ধান পানিতে ভাসছে। অনেকেই কেটে রাখা ধানের শীষের আগা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

উথলী গ্রামের ধানচাষি শুকুর আলী জানায়, দুই দিন আগে প্রচণ্ড রোদ দেখে ধান কেটে রেখেছিলাম। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবহাওয়ার খবরে জানতে পারছি এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকবে। তাই কেটে রাখা ধানের আগা কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। এতে উৎপাদন খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে।

সাজ্জাদ হোসেন নামের আরেক চাষি বলেন, মাঠের ধান পেকে কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাটতে পরছিনা। ধান বেশি পেকে গেলে ঝরে পড়ে যায় ও ফলন অনেক কম হয়। এদের মত অনেক চাষি বৈরি আবহাওয়ার কারণে মাঠে পাঁকা ধান রেখে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। আকাশে মেঘ দেখা দিলে চাষিদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাজ।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। এখনো ধান কাটার কাজ পুরোদমে শুরু হয়নি। ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলে কেটে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের ধান কাটা ও মাড়াই করতে অসুবিধা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে তথ্য দিয়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Share.
Exit mobile version