নিজস্ব প্রতিবেদক, ডুমুরিয়া
ডুমুরিয়ায় উপজেলা ভুমি অফিসের প্রধান সহকারী নাছিমুল হক গাজী সরকারি কর্মচারী হয়েও দীর্ঘদিন যাবত ঠিকাদারি কাজে নিয়োজিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার সকালে ডুমুরিয়া মুক্তিযোদ্ধা মোড়ে পুনঃনির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে তাকে নিয়োজিত দেখা যায়।

জানা যায়, সরকারি চাকরির মূল নীতি অনুযায়ী একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর কোনভাবেই ঠিকাদারী করার সুযোগ নেই। সেই নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী (বড় বাবু নাছিবুল হক গাজী দীর্ঘদিন ঠিকাদারী পেশায় নিয়োজিত থেকে ব্যাবসা করছেন। গত কয়েকদিন যাবত তাকে শরাফপুর এলাকার একটি সড়কে কার্পেটিংয়ের সংস্কার কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে।

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক থেকে মুক্তিযোদ্ধা মোড় হয়ে তিন কিলোমিটার ডুমুরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা পর্যন্ত সড়টি “জিওবি মেইনটেনেন্স প্রকল্প”র আওতায় ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দে রাস্তাটি সংস্কারের কাজ প্রায় শেষের পথে। মেসার্স শাহিদা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও সানজিদা আক্তার নামের এক নারী ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

স্থানীয় কুদ্দুস, গৌতম, সোহেলসহ অনেকেই জানান, ভূমি অফিসের বড় বাবু এখন বড় ঠিকাদার! তিনি বর্তমানে সর্বক্ষণ এই কাজ দেখাশোনা করছেন। তাতে হয়তো এ কাজের সাথে তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।

ঠিকাদার সানজিদা আক্তার জানান, কাজটি মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে আমি কিনে নিয়েছি। এ কাজে সহযোগিতার জন্য আমার খালাতো ভাই নাছিমুল হক দেখাশোনা করছেন। তবে ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী নাছিমুল হক জানান, তিনি এ কাজের অংশিদার রয়েছেন।

এ বিষয়ে এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম জানান, এ কাজের সাইটে প্রায়ই নাছিমুল হক গাজীর সঙ্গে দেখা হয়। তবে এ কাজের মূল ঠিকাদার সাহিদা এন্টারপ্রাইজ। যার প্রোপ্রাইটর সাহিদা। তবে কাজটি সানজিদা আক্তার নামের একজন নারী ঠিকাদার করছেন। এ বিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই জেনে পরবর্তীতে ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধির ১৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে সরকারের অনুমতি ছাড়া ঠিকাদারী বা কোন ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবেন না। এই বিধিনিষেধ শুধুমাত্র চাকরিজীবীর জন্য নয়, তার স্ত্রী, সন্তানসহ নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য।

Share.
Exit mobile version