হাবিবুর রহমান, নড়াইল 

পদ্মা ও মধুমতি সেতু চালুর পর নড়াইল-বেনাপোল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কটি প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৭ জুন পর্যন্ত এ মহাসড়কে ৭৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত এবং অন্তত ১৫০ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একজন সেনা কর্মকর্তাসহ তার স্ত্রী ও সন্তানও রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর নড়াইল-বেনাপোল সড়কের প্রায় ৭০ কিলোমিটার অংশ অত্যন্ত সরু। এই সরু সড়কেই এখন দিন-রাত চলছে তীব্র যানজট ও প্রতিযোগিতা। যানবাহনগুলো ক্রসিং কিংবা ওভারটেকিং করার সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় চাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে বা অন্য গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ছে।

বাসচালক পটু শিকদার বলেন, “ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিংয়ের সময় পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাচ্ছে অথবা অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। সড়কটির এই অংশ চারলেনে উন্নীত না করা হলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে না।”

নড়াইল জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাংধারণ সম্পাদক আলী হাসান বলেন, পদ্মা ও মধুমতি সেতুর কারণে আমাদের যাতায়াত অনেক সহজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় সেই সুযোগ-সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পথচারি, ও যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

নড়াইল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত। চলতি বছরের শেষ দিকে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকা-মাওয়া-নড়াইল-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কের কালনা এলাকায় মধুমতি নদীতে দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতি সেতু’ উদ্বোধন করা হয়।

এরপর থেকেই ঢাকা, যশোর, বেনাপোল, কলকাতা, সাতক্ষীরা, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন নড়াইল রুট ব্যবহার করছে। কিন্তু সেতুর সংযোগ সড়কগুলো আধুনিক ও প্রশস্ত হলেও ভেতরের মূল সড়কটি আগের মতোই সরু রয়ে গেছে।

Share.
Exit mobile version