বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সাত দিন ফুলের রাজ্যেখ্যাত যশোরের গদখালি পানিসারার বিভিন্ন পার্ক, দর্শনীয় স্থান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রোববার থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ রাখার এ সিন্ধান্ত নেয়া হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা রনী খাতুন। তিনি বলেন, ‘গদখালি-পানিসারায় ফুলের এই মৌসুমে অনেক দর্শনার্থী ও মানুষের সমগম বাড়ে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয়; সেই কারণে কমিটির সকলের মতামতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনায় যেকোনও ধরনের কার্যক্রম ও জনসমাগম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, সারাবছরই ফুলের রমরমা ব্যবসা থাকলেও জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি-পানিসারা। ফুলের সঙ্গে ভ্রমণপিপাসুদের বিনোদন দ্বিগুণ করতে সাম্প্রতিক সময়ে ফুলের ক্ষেতগুলোতে গড়ে ওঠে মিনি পার্ক। যা ভ্রমণ করতে আসা মানুষের মাঝে বাড়তি বিনোদন দিয়ে থাকে। শীত মৌসুমে মাঠের পর মাঠ ভরা নানা রঙের বাহারি সুলোর শোভা নিতে দর্শনার্থী বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু ঘোষণা ছাড়ায় হঠাৎ করে গদখালি পানিসারার ফুল ক্ষেতের পার্ক ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ ঘোষণা করাতে বিপাকে পড়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে পর্যটন মৌসুমে এই বন্ধ ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, গদখালি-পানিসারা-হাড়িয়া ফুলমোড়ে বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। শনিবারও এসব ফুল মোড়ে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও রোববার ফাঁকা দেখা যায়। খুলনার ডুমুরিয়া থেকে আসা নারায়ন পাল নামে এক দর্শনার্থী জানান, ‘স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালক শ্যালিকাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছি। সামনে নির্বাচন, পরিবেশ কেমন থাকে; তাই আগেভাগে আসলাম। কিন্তু এসে দেখি সব বন্ধ। এতদূর থেকে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে। এসে দেখি আমাদের মতো অনেকেই মন খারাপ করে চলে যাচ্ছে।’
কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দর্শনার্থীদের চাপ বাড়ে কয়েকগুণ। দর্শনার্থী ধরতে কৃষকেরা তাদের ক্ষেত সাজিয়ে রাখেন। কিন্তু হঠাৎ করে প্রশাসন বন্ধ করে দেয়াতে লোকসানের মুখে পড়তে হবে চাষিদের।
ফুল বিপণন ও সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীদের মূল মৌসুম হলো এই ফেব্রুয়ারি মাস। ভালোবাসা দিবস ও বসন্তবরণ নিয়ে কয়েকদিন ধরে হাট ও ক্ষেত জমজমাট থাকে। যে সাতদিন বন্ধ থাকবে; সেই সাতদিনই দর্শনার্থীদের আলাদা চাপ হয়। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে বিপাকে পড়েছে চাষি ব্যবসায়ীরা। সবাই মনে করেছিলো; কৃষিপণ্য যেহেতু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে বন্ধ থাকবে না। তাই অনেকেই আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছিলো।’
