বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বকেয়া বেতন ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে যশোরে গ্রীনবক্স লন্ড্রী এন্ড ড্রাই ক্লিন নামের একটি প্রতিষ্ঠান অবরুদ্ধ করে রেখেছেন কর্মীরা।

বুধবার বিকেলে শহরের উপশহর সি-ব্লকে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে এ ঘটনা ঘটে। কর্মীরা জানান, বিকেলে তারা একত্রিত হয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থান নেন এবং কাজ বন্ধ রেখে বকেয়া বেতন ও জমা নেয়া অর্থ ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ অবস্থা কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে।

ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই নিয়োগের সময় বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করে আসছে। চাকরিতে যোগদানের সময় জামানত হিসেবে কর্মীদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে এই অর্থ জমা দেন।

এছাড়া বেতন প্রদানের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে ১ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে হিসাব খোলা বা নিয়মিত বেতন প্রদানের কোনো স্বচ্ছ ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি বলে দাবি কর্মীদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী বলেন, প্রথমে ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের নিয়োগ দেয়া হয়। পরে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেয়া হয়। এখন বেতন চাইতে গেলে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। অনেকেই কয়েক মাস ধরে বেতন পাননি।

আরেকজন কর্মী বলেন, আমরা সাধারণ শ্রমিক। আমাদের কষ্টের টাকায় পরিবার চলে। বেতন না পেয়ে আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা প্রতিষ্ঠানটি অবরুদ্ধ করেছি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, কর্মীদের সাথে চুক্তির ভিত্তিতেই জামানত নেয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক হিসাব খোলা ও অন্যান্য অনিয়নের বিষের তিনি বলেন, এগুলো আমাদের ভুল হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কিছু সমস্যা হয়েছে।

এ সময় তিনি আরো জানান, যাদের পাওনা রয়েছে তা পরিশোধ করে দেওয়া হবে। তবে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগেও একই অভিযোগে শহরের বাড়ান্দিপাড়া এলাকা থেকে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে উপশহর এলাকায় এসে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও দাবি করছেন ভুক্তেভোগী কর্মীরা।

এ দিকে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে ভুক্তভোগী কর্মীরা সন্ধ্যায় উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে কর্মীরা দ্রুত বকেয়া বেতন ও জামানতের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

Share.
Exit mobile version