বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বিদ্যা, বুদ্ধি ও সৃজনশীলতার প্রতীক দেবী সরস্বতীর আরাধনায় প্রতি বছর মাঘ মাসে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করে থাকেন সরস্বতী পূজা। পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার মানসকন্যা দেবী সরস্বতী বিদ্যা, জ্ঞান, সংগীত ও কলার দেবী হিসেবে পূজিত। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পূজার গুরুত্ব অপরিসীম। বই-খাতা, বাদ্যযন্ত্র ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে দেবীর চরণে প্রার্থনা জানানো হয় জ্ঞানার্জনের আশীর্বাদের জন্য।

এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় যশোর জেলাজুড়ে এবারও নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে সরস্বতী পূজা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পূজা অনুষ্ঠিত হয়।শুক্রবার সকালে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের সনাতন শিক্ষার্থী সংসদের উদ্যোগে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়।

সকাল ১০টায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পূজার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম রফিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরস্বতী পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক অসিত কুমার দত্ত, সহযোগী অধ্যাপক নীতিশ কুমার, সহকারী অধ্যাপক বিধান ভদ্রসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

যশোর সরকারি সিটি কলেজে পূজায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর জয়নাল আবেদিন, প্রফেসর বিশ্বজিত কুমার, সহযোগি অধ্যাপক বিকাশ চন্দ্র পাল প্রমুখ। পূজায় পৌরহিত্য করেন সত্যজিত মজুমদার।

যশোর জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত সরস্বতী পূজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক জয়নুল আবেদিন, সিনিয়র শিক্ষক আশোক কুমার দে, বিধান চন্দ্র রায়, রায় প্রকাশ কুন্ডু ও তৃপ্তি রানি ঘোষ। পূজার পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন দেবাশীষ চক্রবর্তী।

আব্দুর রাজ্জাক কলেজে আয়োজিত সরস্বতী পূজায় উপস্থিত ছিলেন পূজা কমিটির আহ্বায়ক জয়দেব মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ রায়, সদস্য গৌতম পাল ও সুপ্রিয়া ঘোষ।

যশোর আইনজীবী সমিতি (উকিলবার) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সরস্বতী পূজায় উপস্থিত ছিলেন, বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর, আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গৌরচাঁদ মন্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট চিরন্তন মল্লিক, অ্যাডভোকেট পলক কুমার মৈত্র, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাঠক এবং কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট জে. এন. রায় (তাপস)। এখানে পূজার পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন সত্যজিৎ চক্রবর্তী।

পুলিশ লাইন স্কুলে আয়োজিত সরস্বতী পূজায় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনোতোষ কুমার নন্দী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার ও রুহুল আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র শিক্ষক জগদিশ চন্দ্র বসু, সঞ্জয় কুমার বিশ্বাস ও তুষার কান্তি ভট্টাচার্য।

সার্বিকভাবে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উৎসাহের আবহ।

Share.
Exit mobile version