‎শ্যামনগর সংবাদদাতা :

‎বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ব্যতিক্রমী বৃক্ষ পদযাত্রা ও পরিবেশ রক্ষার শপথ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় উপজেলার সংগঠিত জনসংগঠন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোসিয়েশন ও গ্রীণ কোয়ালিশনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‎কর্মসূচির শুরুতেই প্রকৃতি যেন নিজস্ব ভাষায় পরিবেশ দিবসের বার্তাকে স্বাগত জানায়। পদযাত্রা শুরুর মুহূর্তে আকাশজুড়ে নেমে আসে প্রশান্তির বৃষ্টি। যা চারপাশের গাছপালা, মাটি ও পরিবেশকে স্নিগ্ধতায় ভিজিয়ে দেয়। বৃষ্টিস্নাত শীতল ও প্রাণবন্ত পরিবেশে আয়োজনকারীরা জানান, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচিতে প্রকৃতির এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ যেন পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বকে নতুনভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

সকাল ৯ টায় ঈশ্বরীপুর এ. সোবহান মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহীন ইসলাম। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

পরে এ. সোবহান মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৃক্ষ পদযাত্রা বের হয়ে যশোরেশ্বরী মন্দির অভিমুখে অগ্রসর হয়। পদযাত্রায় শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে লবণ সহিষ্ণু কদবেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা এবং পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বানসংবলিত নানা ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড ছিল। পদযাত্রা শেষে সকল অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকে গাছ দত্তক নেন। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান আটুলিয়া ইউনিয়নের সবুজ যোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।

‎এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু হাতে গোনা কয়েকজন মানুষের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য এস.এম শফিউল্লাহ। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও জোরদার করতে হবে। একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Share.
Exit mobile version