আসাদুজ্জামান রয়েল, মণিরামপুর
যশোরের মণিরামপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী ও হরিহর নদীর তীর ঘেষে কপালিয়া বাজারটির অবস্থান। প্রাচীন এ বাজার ভবদহ এলাকার চার উপজেলা মণিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়ার মোহনায় অবস্থিত।

এলাকাটি অভিশপ্ত ভবদহ এলাকায় হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় জলমগ্ন থাকে। এখানকার মানুষের জীবন-মান, প্রাকৃতিক পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন। তাদের জীবন-জীবিকা মূলত মাছ চাষ ও ধরার উপর নির্ভরশীল। তবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনপদের প্রায় প্রতিটি পরিবার বাড়তি আয়ের আশায় দু-একটি গবাদী পশু লালন-পালন করেন।

কিন্তু গবাদী পশু পালনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে গো-খাদ্য বিচালির সংকট। কারণ এ এলাকায় বন্যার কারণে কৃষকরা তাদের জমিতে ধান চাষ করতে পারেন না। সে কারণে তারা বাধ্য হয়ে বাজার থেকে বিচালী কিনে গো-খাদ্যের চাহিদা মেটান। আর গো-খাদ্যের এ চাহিদাকে কেন্দ্র করে কপালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের প্রশস্ত রাস্তার উপর প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে গড়ে উঠেছে বিরাট বিচালির হাট।

মণিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা বিচালি ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে করে হাটের দিন দুপুরের মধ্যে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। মণিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলা বিশেষ করে ভবদহ পাড়ের কৃষকরা এই বাজারের বিচালির ক্রেতা।

সরেজমিনে গত শুক্রবার সাপ্তাহিক হাটের দিনে কথা হয় কপালিয়া গ্রামের দাউদ হোসেন সরদারের সাথে। তিনি বলেন, ভবদহ এলাকার আশ-পাশের চারটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে মণিরামপুরের উপজেলার কপালিয়া, মনোহরপুর অভয়নগরের কালিশাকুল, ভবানিপুর, দামোখালি, দত্তগাতি, ডুমুরিয়া উপজেলার কাটেংগা, চেতুরী, মাদরা, ময়নাপুর ও কেশবপুর উপজেলার শানতলা গ্রামের মানুষ এ বাজারে বিচালির ক্রেতা।

কপালিয়া বাজারে বিচালি (গো-খাদ্য) কিনতে আসা ছোমেত বিশ্বাসের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের তিনি জানান, একটি এঁড়ে (ষাঁড়) লালন-পালন করছেন সে জন্যে প্রতি সপ্তাহে অন্যান্য খাবারের সাথে তার এক পোন (৮০পিস) বিচালি কিনতে হয়।

বিচালি হাটের ব্যাপারী মণিরামপুর উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি শুক্র ও সোমবার প্রতি হাটের দিন এই বাজারে ২/৩ কাওন (১২৮০ পিস/১৬ পোন) বিচালি নিয়ে আসেন। বর্তমানে বিচালির দাম তুলনামূলক একটু কম। প্রতি পোন বিচালি এখন বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা দরে।

এতে যে লাভ হয় তাই দিয়েই তার সংসার ও ছেলে-মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চলে। এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান আকতার ফারুক মিন্টু জানান, কপালিয়া বাজারটি মণিরামপুর উপজেলার একেবারে শেষ সীমানায় হলেও এখানে মাছ বেচা-কেনার বড় একটি মার্কেট রয়েছে। রয়েছে অত্র এলাকার সবচেয়ে বড় গো-খাদ্য অর্থাৎ বিচালির হাট।

Share.
Exit mobile version