মাগুরা সংবাদদাতা

মাগুরা সদর উপজেলার কছুন্দী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে গরু ব্যবসায়ী আকামত বিশ্বাসের (৪৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ এবং পাওনাদারদের হয়রানির অভিযোগের মধ্যে তার মৃত্যুতে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা-তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে আকামত বিশ্বাসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, আকামত দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকার চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার স্ত্রী ছবি বেগম অভিযোগ করেন, ঈদের এক সপ্তাহ আগে আর্থিক ও মানসিক চাপে বিষপান করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে উলিনগর গ্রামের লাল বিশ্বাস তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ছবি বেগম বলেন, “ঈদের দিন আমরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গেলে লাল বিশ্বাস তাকে আমাদের কাছে দেননি। পরে দ্বিতীয়বার গেলেও ফিরিয়ে দেয়া হয়নি। গত ১ জুন তিনি পাওনা টাকা সংগ্রহ করে লাল বিশ্বাস ও রতন মোল্লার পাওনা পরিশোধ করেন। তারপরও তাকে পরিবারের কাছে ফিরতে দেয়া হয়নি। পরদিন সকালে হঠাৎ আমাদের গোয়ালঘরে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

নিহতের ভাই নান্নু বিশ্বাসও একই অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে আকামত বিশ্বাসের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র।

Share.
Exit mobile version