শরিফুল ইসলাম
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মসজিদ বাংলাদেশের প্রাচীন ইসলামী স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এই মসজিদটি ভৈরব নদীর তীরে নিরিবিলি পরিবেশে দাঁড়িয়ে আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি
ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় সাড়ে ৫০০ বছর আগে ইসলাম প্রচারক ও তৎকালীন প্রভাবশালী শাসক হজরত পীর খানজাহান আলী (রহ.) এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৫শ শতকের শেষভাগ বা ১৪৪৫ থেকে ১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তাঁর সফরকালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তখন তিনি বাগেরহাট অঞ্চল থেকে ভৈরব নদের তীর ধরে বিভিন্ন এলাকায় ইসলাম প্রচার, রাস্তা, দীঘি ও মসজিদ নির্মাণের কাজ করছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় শুভরাড়া গ্রামে এসে তিনি এই জামে মসজিদ নির্মাণ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

অবস্থান ও পরিবেশ
মসজিদটি যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের শুভরাড়া গ্রামে ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। এটি গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা একটি শান্ত ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা স্থানীয়দের কাছে একটি ধর্মীয় ও পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও পরিচিত।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
♦ একটি গম্বুজ ও চারটি মিনারবিশিষ্ট নির্মাণশৈলী
♦ প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যরীতিতে উন্নতমানের ইট দিয়ে নির্মিত
♦ ছোট হলেও নান্দনিক কারুকাজে সমৃদ্ধ
♦ এই স্থাপত্যরীতি মধ্যযুগীয় বাংলার ইসলামী স্থাপত্যের একটি সুন্দর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

অবহেলা থেকে পুনরুদ্ধার
স্থানীয় সূত্র মতে, ১৯৬৩ সালের আগে মসজিদটি আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে এটি সংস্কার করেন এবং পুনরায় নামাজ আদায় শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার করা হয়।

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
এই মসজিদ শুধু একটি নামাজের স্থান নয়, বরং খানজাহান আলী (রহ.)-এর ইসলাম প্রচারের ইতিহাসের স্মারক হিসেবেও পরিচিত। প্রতিদিন স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে নামাজ আদায় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে আসেন।

সংক্ষেপে বলা যায়, অভয়নগরের শুভরাড়া খানজাহান আলী (রহ.) মসজিদটি মধ্যযুগীয় ইসলামী ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রাচীন স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক মূল্যবান নিদর্শন, যা আজও সময়ের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

Share.
Exit mobile version