বাংলার ভোর প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবলের উত্তেজনা এখন শুধু টেলিভিশনের পর্দায় নয়, ছড়িয়ে পড়েছে যশোরের খুদে ফুটবলারদের মাঝেও। ছোট্ট পায়ে বড় স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছে ৭ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা। কারও গায়ে ব্রাজিলের হলুদ জার্সি, কেউ আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা, আবার কেউ বাংলাদেশের লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছে। বিশ্বকাপের সেই পরিচিত আবহ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যশোরে।

শনিবার বিকেলে শহরের আর এন রোড ক্রীড়া চক্রের মাঠে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘রিপন অটোস জুনিয়র বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬’। শিশুদের নিয়ে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। গ্যালারির চারপাশে ভিড় করেন শত শত অভিভাবক, ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয় দর্শক। ছোট ছোট ফুটবলারের প্রতিটি পাস, ড্রিবল, গোলের চেষ্টা আর উচ্ছ্বাসে যেন ফুটে ওঠে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনসুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান।

ভিডিও দেখতে ছবিতে ক্লিক করুন।

আয়োজকরা জানান, গত রোববার অনুষ্ঠিত বাছাই কার্যক্রম শেষে ২৪০ জন শিশুকে নিয়ে বিশ্বের জনপ্রিয় ১৬টি দেশের নামে ১৬টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলই বিশ্বকাপের আদলে নিজেদের দেশের জার্সি পরে মাঠে নামছে। ফলে শিশুদের কাছে এটি শুধু একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক ও ব্রাদার টিটোস হোমের অধ্যক্ষ আলী আযম টিটো বলেন, “শিশুদের কাছে বিশ্বকাপের আনন্দ পৌঁছে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। তারা যেন নিজেদের প্রিয় ফুটবল তারকাদের অনুসরণ করে মাঠে খেলতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করাই আমাদের উদ্দেশ্য। পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দলগত চেতনা গড়ে তোলাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।”

উদ্বোধনী দিনে দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ব্রাজিল। দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াই করে আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে। খেলার ফলের চেয়ে মাঠজুড়ে ছিল শিশুদের আনন্দ, প্রতিযোগিতার স্পৃহা এবং ফুটবলের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ।

মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে সন্তানদের খেলা উপভোগ করছিলেন অভিভাবকরা। কেউ মোবাইল ফোনে স্মৃতি ধরে রাখছেন, কেউবা করতালিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। ছোট্ট খেলোয়াড়দের চোখে-মুখে ছিল স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস আর জয়ের প্রত্যয়। তাদের দৌঁড়, পাস আর গোলের উদযাপনে বারবার প্রাণ ফিরে পায় মাঠ।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদীরা বলছেন, এমন আয়োজন শিশুদের মোবাইল ও অনলাইননির্ভর জীবন থেকে মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এখান থেকেই ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

খুদে ফুটবলারদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর এই জুনিয়র বিশ্বকাপ যেন প্রমাণ করে-বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য শুধু বড়দের নয়, স্বপ্ন দেখা শিশুদের মধ্যেও সমানভাবে বেঁচে থাকে।

Share.
Exit mobile version