বাংলার ভোর প্রতিবেদক
‘শুধু আমাগের নামে লিখেন না। গোফরান তৈরি করে যারা তাগের নামেও লিখেন। জীবনে প্রথমবার ধরা পড়লাম। আমার নামের ওপর এলাকায় চান্দাবাজি চলে। আমি এক জায়গা থেকে চান্দা নিলে ওরা আমার নাম ভাঙিয়ে ৫ জায়গা থেকে নিচ্ছে। আমি যখন মরেছি ওদের বাঁচায়ে কি হবে। ওরা উপরে উপরে দুনিয়ার কাছে ভালো দেখায়। ওগের এখন বড় অস্ত্র বিএনপি।
বিএনপির বড় বড় নেতা হয়েছে সব। মতিয়ার ফারাজির শেল্টারে ওরা এসব করছে। আমি আগে মাছের জাল টানা কাজ করতাম। আমার খারাপ বানায়েছে তো ওরা।’ যশোরের ত্রাস হিসেবে পরিচিত কথিত ‘গোফরান বাহিনীর’ প্রধান নাসির শেখ ওরফে গোফরান গ্রেফতার হওয়ার পর সাংবাদিকদের দেখে এভাবেই নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
অভয়নগরসহ আশেপাশের এলাকায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি করলেও, ধরা পড়ার পর তিনি দায় চাপিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়ের ওপর। গোফরানের দাবি, তার মতো ‘গোফরান’ এলাকায় তৈরি করা হয়েছে এবং বিএনপি নেতা মতিয়ার ফারাজির শেল্টারে এসব কর্মকাণ্ড চলছে।
যশোর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের আতঙ্ক, ২০টির বেশি মামলার আসামি নাসির শেখ (৪০) ও তার সহযোগী সোহেল রানা (২৮)-কে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। পাওয়া গেছে ছিনতাই হওয়া ইয়ামাহা আরঅন ফাইভ মোটরসাইকেল, একটি এইচপি ল্যাপটপ ও একটি জিক্সার মোটরসাইকেল।
গত ১ মার্চ রাত আড়াইটার দিকে অভয়নগরের গোপিনাথপুর গ্রামে সোহেল শিকদারের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালায় গোফরান বাহিনী। ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে তারা নগদ টাকা, ল্যাপটপ ও দামি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে।
পুলিশের তথ্যমতে, নাসির শেখ ওরফে গোফরান নিষিদ্ধ ঘোষিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নাম ব্যবহার করে যশোর, খুলনা ও নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলেন। তার নামে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ২০টির বেশি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ঝুলে ছিল। অন্য সহযোগী সোহেল রানা তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় ৭টি মামলা রয়েছে।
সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানান, আসামিদের ইতোমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তবে গ্রেফতারের সময় গোফরানের দেয়া তথ্য ও রাজনৈতিক শেল্টারের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
