বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরের ৫টি আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করার পর জেলাজুড়ে নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ করেছে জেলা জামায়াত। শুক্রবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, যশোর জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনের নবনির্বাচিত এমপি আজীজুর রহমান, যশোর-২ আসনের এমপি মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের এমপি গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ আসনের এমপি মোক্তার আলীসহ জেলা নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিকল্পিত হামলার শিকার হচ্ছেন জামায়াতের কর্মীরা।

ঝিকরগাছার নাভারণ ইউনিয়নের বায়সায় রেজাউল হোসেন নামে এক কর্মীকে পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান খুলতে বাধা এবং নারী ভোটারদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।

চৌগাছার জগদীশপুর ইউনিয়নে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের কমিটি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে আবেদ আলীর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। দুর্গাবরকাটি গ্রামে সাবেক মেম্বার তোফাজ্জেলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার মেয়েকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। নির্যাতনের শিকার ওই মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

শার্শার বেলতা গ্রামে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ায় মৃত অমর বিশ্বাসের দুই ছেলে মিলন ও তরিকুলের নেতৃত্বে জামায়াত কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে একজন প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর এবং বিএনপি নেতা খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

যশোর সদরের সুজলপুর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং জামায়াত কর্মী সুমনের বাড়িতে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার একাধিক বাড়ি ও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়।

অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, নির্বাচন পরবর্তী এই প্রতিশোধমূলক সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর এই বর্বরোচিত আচরণ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। শার্শা, মণিরামপুর, কেশবপুর, বাঘারপাড়া ও অভয়নগরেও সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে।

তিনি অবিলম্বে এসব হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলন থেকে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানানো হয়।

Share.
Exit mobile version