বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে দীর্ঘদিন ধরে মাসিক ভাড়া পরিশোধ না করে জোরপূর্বক একটি ভবন দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক।
রোববার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাড়ির মালিক জানান, তিনি যশোর সদর উপজেলার ৫নং উপশহর ইউনিয়নের ৮নং সেক্টরের ‘শিল্প এ/২২’ নম্বর বাড়ির বৈধ মালিক। ২০২৪ সালের ২৭ জুন আরাফাত নাজনীন নামের এক ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ছয় মাস মাসিক ভাড়া ছিল ৬০ হাজার টাকা এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তা ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চুক্তি হওয়ার পর থেকে জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ এবং পরবর্তী সময় পর্যন্ত ভাড়াটিয়া কোনো ভাড়া পরিশোধ করেননি। এ নিয়ে একাধিকবার মৌখিক সালিস ও অনুরোধ করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। নিরুপায় হয়ে বাড়ির মালিক দুই দফা ভবনে তালা লাগালেও ভাড়াটিয়া পক্ষ জোরপূর্বক তালা ভেঙে পুনরায় দখল নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও ভাড়াটিয়া পক্ষ কোনো সাড়া দেয়নি। গত বছরের ২৮ অক্টোবর আপসের আশ্বাস দিয়ে মাত্র ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয় এবং ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ১ লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এছাড়া ২০২৬ সালের ১ মার্চের মধ্যে ভবন ছাড়ার নোটিশ দেয়া হলেও ভাড়াটিয়া তা অমান্য করে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ভাড়াটিয়া পক্ষ অসহযোগিতা করে আসছে বলে দাবি করা হয়। সর্বশেষ গত ১১ এপ্রিল থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তদন্ত কর্মকর্তা বকেয়া ২১ মাসের ভাড়া পরিশোধের নির্দেশ দিলেও ভাড়াটিয়া পক্ষ নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থিত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক বলেন, “ভাড়া চুক্তির সকল শর্ত ভঙ্গ করে জোরপূর্বক আমার ভবন দখল করে রাখা হয়েছে। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”
তিনি দ্রুত ভবন উদ্ধার এবং বকেয়া ভাড়া আদায়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাড়ির মালিক নাজমুন নাহার, তার স্বামী খন্দকার আব্দুল মান্নান এবং দুই মেয়ে শামীমা আক্তার ও মৌসিনা জিতু।
