বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, রেল শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সম্পাদক এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) যশোর জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা কৃষ্ণ লাল সরকারের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত রাজেন্দ্র ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হওয়ার কথা থাকলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী শনিবার বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল হক লিপু, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের আইন বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান টিটু, পৌরসভা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মতিলাল, হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা আইয়ুব হোসেন এবং নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া অফিসের কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন।
সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রাশেদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, শ্রমিকনেতা কৃষ্ণ লাল সরকারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলার মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনকে দমিয়ে রাখা যাবে না। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে নিহত শাম্মীর ভাই সামিমুল ইসলাম সজীব, নাহিদ হাসান, আব্দুল আহাদ, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিমি খাতুন, জিনিয়া খাতুন, আল মামুনসহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিক নেতার ওপর এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশে উপস্থিত শ্রমিক নেতারা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
নিহত শাম্মীর ভাই সামিমুল ইসলাম সজীব বলেন, আমার বোনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, শুধু ন্যায়বিচার চাই। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।
শিক্ষার্থী মিমি খাতুন বলেন, শাম্মী আমাদের স্কুলের বড় বোন ছিল। আমরা তার হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী জিনিয়া খাতুন বলেন, আজ শাম্মীর জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীর জীবন এভাবে ঝরে যেতে পারে না।
আল মামুন বলেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা ‘শাম্মী হত্যার বিচার চাই’, ‘খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করো’, ‘বিচারহীনতার অবসান চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীরা শাম্মী হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
