শরিফুল ইসলাম
আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মদিন।
এই দিনটি কেবল একজন ব্যক্তির জন্মদিন হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস,
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রচিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। এমন এক সময়ে
তাঁর জন্মদিন আসে, যখন দেশ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে নানা সংকটের মুখোমুখি।
এই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমানের জীবন ও দর্শন নতুন করে পর্যালোচনা করা সময়ের দাবি।

জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ক্রান্তিলগ্নে তাঁর কণ্ঠে ঘোষিত স্বাধীনতার আহ্বান বাঙালি জাতিকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছিল। একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা হয়েও তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু সামরিক দায়িত্ব পালন করেননি, বরং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার এক ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। স্বাধীনতার পর বিধ্বস্ত অর্থনীতি, ভেঙে পড়া প্রশাসন ও হতাশাগ্রস্ত জনগণের সামনে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় শহীদ জিয়ার দর্শন ছিল বাস্তবমুখী ও জনগণকেন্দ্রিক। তিনি বিশ্বাস করতেন, উন্নয়নের মূল শক্তি গ্রাম থেকে আসবে। কৃষক, শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়—এই উপলব্ধি থেকেই তিনি গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনীতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন, যা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিল সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ছিল শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি। এই ধারণার মাধ্যমে তিনি ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতাকে এক সুতোয় গেঁথে জাতির একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, জাতীয় ঐক্য ছাড়া রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করা সম্ভব নয়। আজকের বিভক্ত রাজনীতিতে এই চিন্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এমন একজন রাষ্ট্রনায়ককে ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। তাঁকে হত্যা করা হলেও তাঁর আদর্শ ও অবদানকে মুছে ফেলা যায়নি। আজও দেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের আলোচনায় জিয়াউর রহমানের নাম বারবার ফিরে আসে। এটি প্রমাণ করে, ইতিহাসে তাঁর অবস্থান সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে।

শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মদিন আমাদের জন্য শুধু স্মরণ নয়, আত্মবিশ্লেষণেরও উপলক্ষ। আমরা কি তাঁর দেখানো গণতন্ত্র, দেশপ্রেম ও সততার পথে এগোচ্ছি? রাষ্ট্র পরিচালনায় কি জনগণের মতামত ও স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই হতে পারে তাঁর জন্মদিনে প্রকৃত শ্রদ্ধা।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইতিহাসের একটি অধ্যায় নন; তিনি বাংলাদেশের চলমান চেতনার অংশ। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন তাঁর অবদান ও আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে—এটাই সময়ের সত্য।

লেখক : অনলাইন ইনচার্জ, দৈনিক বাংলার ভোর

Share.
Exit mobile version