বাগআঁচড়া সংবাদদাতা :
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে আটক ও পলাতক আসামিকে ঘিরে দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্রকরে এক বিজিবির সদস্যর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে শার্শা উপজেলার নাভারণ বাজারে একটি ঘরে ব্যানার টানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের (বেনাপোল কোম্পানি সদর) হাবিলদার জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল গত ২৭ মে বেনাপোল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাচালানকৃত বিদেশি পণ্যসহ শান্ত নামে এক আসামি আটক করেন এবং তার সাথে থাকা অপর ব্যক্তি পালিয়ে যায়। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় ৪৮ হাজার টাকার পণ্য চালান আটকসহ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা সম্পন্ন করে দুজনের নামে মামলা দেয়া হয়। বেনাপোল পোর্ট থানা মামলা নং-২৭।

ওই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পলাতক আসামি ইকরামুল আলম পলাশের বোন জামাই শিমুল হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে বিজিবির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তা মিথ্যা ও বানোয়াট। মূলত মামলার পলাতক আসামির স্বার্থ রক্ষাসহ সীমান্ত এলাকায় বিজিবির চোরাচালান বিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে সংঘবদ্ধ চোরাচালান বাহিনী সংবাদ সম্মেলনের নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

বিজিবির এক সদস্য অভিযোগ করে জানান, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তার দাবি মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি পক্ষ সংগঠিতভাবে এই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় যশোর ৪৯ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বদা তৎপর রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনটি শার্শার নাভারণ বাজারে একটি ঘরে আয়োজন করা হয়। যেখানে অনিবন্ধনকৃত অনলাইন পোর্টালে অর্থের বিনিময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে, যা আইনের পরিপন্থী। তাছাড়াও ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৩ মে বিজিবি সদস্য তাকে নির্যাতন করেছে। অথচ গত ১ মাস পর তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান, শার্শা উপজেলায় নাভারণ বাজারে বিজিবি সদস্যের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনটি কোন সাংবাদিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেনি। সেখানে উপজেলার কিছু ভুঁইফোড় কথিত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া রাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা একজন সৎ ও আদর্শবান সৈনিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণিত মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সাথে এহেন কাজে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.
Exit mobile version