বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা খাতুন ওরফে আফরোজা আক্তার মুক্তা নামে এক নরীর বিরুদ্ধে। তার করা একের পর এক মামলার কারণে তার নিজ পরিবারের সদস্যসহ প্রতিবেশীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আফরোজা খাতুন বিভিন্ন সময়ে এলাকার অসহায় মানুষদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছেন। তার মামলার হাত থেকে মসজিদের ইমাম, প্রতিবেশী ও নিজ পরিবারের সদস্য কেউই রেহাই পাননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে মহল্লার কিছু গরিব ও অসহায় নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক রান্নাবান্না ও বাড়ির বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেন তিনি। কেউ তার কথা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন।
স্থানীয়দের দাবি, বসতপুর বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা খাতুন একাধিক বিয়ে করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের কাবিনের টাকা গ্রহণের পর স্বামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আফরোজা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামীর নাসির উদ্দীন জানান, ২০০৩ সালে আফরোজার সাথে তার বিয়ে হয় এবং ২০২৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বিবাহিত জীবনে বিভিন্ন কৌশলে তার প্রায় চার বিঘা জমি বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করেন আফরোজা। পরে সেই টাকা ফেরত চাইলে তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার ভয়ে তারা আর টাকা ফেরত চাইতে সাহস পাননি। পরে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এছাড়াও তার বড় ভাইকে মারধর করে তার নামে চুরি ও ডাকাতির মতো একাধিক মামলা দিয়েছে, যা এখনও আদালতে চলমান।”
প্রতিবেশী এক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, “তিনি প্রায়ই আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন। তার কথার অবাধ্য হলে দা নিয়ে মারতে আসেন এবং বাড়ির দরজা ও টিনের চাল ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নামে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন। তার অত্যাচারে আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”
৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারী বলেন, “একদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি আমার বাড়িতে এসে বিভিন্ন সবজি ও তরকারি রান্না করতে বলেন। আমি অসুস্থ থাকায় রাজি না হওয়ায় পরে আমার ছেলের নামে মামলা করেন।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এলাকায় প্রায় ১৫০ জন প্রতিবেশীর নামে তিনি বিভিন্ন সময় মামলা করেছেন। তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে পুলিশ প্রশাসনকে বদলির হুমকি দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আফরোজা আক্তার বলেন, ৯০ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত বিষয়টা চলমান। এ বিষয়ে তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের সময় নেতৃবৃন্দ এসপি, ডিসি, সবাই জানতো। বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, সাবেরুল হক সাবু শার্শা উপজেলা বিএনপির আবুল হাসান জহির, সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন ও খাইরুজ্জামান মধু বিষয়টি অবগত আছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তার অধিকাংশেরই সুস্পষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তারপরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এসব সম্পত্তির দাবি করে যাচ্ছেন। এ ধরনের বিষয় দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত, সেখান থেকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। আমরা তদন্তে জেনেছি, মহিলাটী ঝগড়াটে স্বভাবের এবং ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা সতর্ক রয়েছি।
