বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার চার্জশিটের ওপর শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি নূর আলম পান্নু।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক-৪ শাখা একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করে। একই সঙ্গে লাইসেন্সধারীদের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শাহীন চাকলাদার তার লাইসেন্স করা পিস্তল (নং-৬৯৪৪৬) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেননি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই ঘটনার পর পুলিশ জানতে পারে, পতীত আওয়ামী লীগের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের সময় শাহীন চাকলাদারও অস্ত্রসহ আত্মগোপনে চলে যান। তদন্ত প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অস্ত্র নিয়ে পলাতক থাকায় তা সন্ত্রাসী বা দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।
এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২৮ মে অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীন চাকলাদারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
পরে মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার চার্জশিট গ্রহণের পর আদালত পলাতক আসামি শাহীন চাকলাদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাহীন চাকলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়।
এছাড়া একই বছরের ১৭ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শাহীন চাকলাদার ও তার স্ত্রী ফারহানা জাহান মালার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, শাহীন চাকলাদার ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৪২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪১ কোটি টাকারও বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী ফারহানা জাহান মালার বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যোগসাজশে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।
