কাজী নূর
যশোরের বাজারে চাল, ডাল, মাংস ও সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বৃদ্ধি পেয়েছে ভোজ্যতেল সয়াবিনের দাম। বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে কেজি প্রতি সয়াবিন তেল ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৩ থেকে ৫ টাকা বেশি। এদিকে আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে সয়াবিন তেলের দাম আরো বৃদ্ধির আশংকা প্রকাশ করে বিক্রেতারা বলছেন, সরকারকে এখনই খাতুনগঞ্জ সিণ্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। না হলে চরম বেকায়দায় পড়তে পারে ভোক্তারা।

শুক্রবার সকালে যশোর শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজারে সরেজমিনে ঘুরে এসব তথ্য মিলেছে। কালীবাড়ি ও নিচের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে ফুলকপি কেজি প্রতি ৪০ টাকা, মানকচু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা, ব্রকোলি ৪০ টাকা, পুঁইশাকের মিচুড়ি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরলতি ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, শষা ৬০ টাকা, মেটে আলু ৫০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, শিম ২০ থেকে ৩০ টাকা, শিমের বিজ ৮০ থেকে ১১০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, সবুজ শাক ২০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, কুমড়ো ৪০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বিট ৩০ টাকা, শাকের ডাটা ৩০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হয়েছে।

বিক্রেতা মো. রাকিব জানান, এখন তরকারির দাম কম, বাজারে ক্রেতাও কম। বিক্রি এমন পর্যায়ে যে খরচ উঠানো দুষ্কর। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদল হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন রাকিব।

মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা কেজি, বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা লিটার, সরিষার তেল ২৩০ টাকা কেজি ও পাম তেল ১৭৫ টাকা, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৬০ টাকা, লসি মসুরি ডাল ৯০ টাকা, দেশি মসুরি ১৬০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, বুট ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা, আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাল ডিম ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা, সাদা ডিম ৩০ টাকা, হাঁস ৬০ টাকা ও কোয়েল ১১ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে।

আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে ভোজ্যতেলের দাম আরো বৃদ্ধির আশংকা প্রকাশ করে গোপাল ট্রেডার্সের পরিচালক গনেশ সাহা গান্ডু বলেন, ২/৫ টাকা করে দাম বৃদ্ধি পেতে পেতে এক সময় নাগাল ছাড়িয়ে যাবে। সরকারের উচিত হবে এখনই চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া। কোন কিছুর দাম বৃদ্ধি পেলে ক্রেতাদের কাছে নানা রকম জবাবদিহি করতে হয় আমাদের।

মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আসন্ন রমজানের আগে মুরগির দাম আরো বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে বলে জানান বিক্রেতা সাহেব আলী। তিনি জানান, খামারে মুরগি নেই, আবার চাহিদা থেমে নেই। তাই দাম বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে টেংরা কেজি প্রতি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাঁকলে ৫০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, জিয়েল ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২৪০ টাকা, মায়া ৩০০ টাকা, ভেটকি ৬৫০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১২০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ৪ কেজি সাইজের কাতলা কেজি প্রতি ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা, দুই কেজি সাইজের রুই ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা, ফলই ৪০০ টাকা, বেলে ৬০০ টাকা, বাটা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২২০ টাকা, শোল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, নাইলোটিকা ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া ৩ থেকে ৪ পিসে কেজি সাইজের ইলিশ মাছ ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা মেহের বিশ্বাস জানান, বাজারে মাছের সরবরাহ ভালো। দাম ক্রেতাদের নাগালে। মাসের প্রথম বিধায় বিক্রি বেশ ভালো।

বাজার শেষ করে বাড়িতে ফিরছিলেন শহরের পোস্ট অফিস পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সেলিম। আলাপকালে তিনি দৈনিক বাংলার ভোরকে জানান, শহরের নিকটবর্তী একটি উপজেলা শহরে ব্যাংক চাকরি করি। সপ্তাহে একদিন বাজার করি। আজ বাজারে সবকিছুর দাম একটু কম মনে হলো। এর মধ্যে মুরগি এবং মাছের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে হয়। একমাত্র ডিম সস্তা।
বাজারের চাল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৬৪ থেকে ৭৬ টাকা, কাজললতা ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, বাসমতি ৮০ থেকে ৮৪ টাকা, আঠাশ ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চান্নীর আলম ট্রেডার্সের মালিক বদরুল আলম জানান, চালের দাম বৃদ্ধির কোন আশংকা নেই।

Share.
Exit mobile version