শ্যামনগর সংবাদদাতা

সুন্দরবনে পরিচালিত কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলামসহ দুই ডাকাতকে আটক এবং শওকত সরদার নামে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানায়, টানা দুই দিনের অভিযানে ডাকাতদের সঙ্গে গোলাগুলির একপর্যায়ে একটি নৌকায় আগুন ধরে যায় এবং অন্যটি ডুবে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, তিনটি ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবস্থান করছে।

এ প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন বিকেল ৫টা হতে টানা দুই দিনব্যাপি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন দস্যুদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে। পরে ওই বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়। অভিযানে কোস্ট গার্ড কর্তৃক ১ রাউন্ড ব্ল্যাঙ্ক কার্টিজ এবং ২১৬ রাউন্ড তাজা গোলা ফায়ার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম এবং ডাকাত শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদের কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাটানো হয়। এদিকে, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।

এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, শনিবার সকালে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানিয়েছেন, কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার আরিফুল ইসলামের করা এজাহারের ভিত্তিতে দুটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। একটি মামলায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্টসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং অপরটি অস্ত্র আইনে করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Share.
Exit mobile version