বাংলার ভোর প্রতিবেদক
শুধু ক্লাসরুমভিত্তিক পাঠদান কিংবা চাকরির বাজারে স্নাতকদের সংখ্যা বাড়ানো নয় শিক্ষার্থীরা যেন স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেই নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নিয়েছে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এ লক্ষ্যে বুধবার কলেজটির বিজ্ঞান ক্লাবের আয়োজনে আব্দুল হাই কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো মাশরুম চাষ বিষয়ক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ। কর্মশালায় কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কেবল ডিগ্রি নয়, দক্ষতা ও উদ্যোক্তা মানসিকতাই শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ তরুণদের স্বনির্ভরতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. শেখ খসরুজ্জামান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মহসীন উদ্দীন। প্রবন্ধে তিনি, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় মাশরুম চাষের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

ওয়ার্কশপের মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন, রায়হান জৈব কৃষি প্রকল্পের পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম। তিনি আধুনিক ও লাভজনক মাশরুম চাষের কৌশল, উপযুক্ত পরিবেশ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ডা. হারুন অর রশিদসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানবৃন্দ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, এমএম কলেজ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান। কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ সঞ্চালনা করেন রসায়ন বিভাগের প্রভাষক সজীব কুণ্ড।

শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে মাশরুম চাষের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া তৈরি করে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। যা কর্মশালাকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলে। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সনদপত্র তুলে দেয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত কার্যকর বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, এমএম কলেজে এর আগেও মুক্তা চাষসহ বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

Share.
Exit mobile version