বাংলার খেলা ডেস্ক :
২১ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিল। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়া মিচেল মার্শকে দেশ থেকে উড়িয়ে আনলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাকে খেলায়নি। রিজার্ভে থাকা রাইলি মেরিডিথকে একাদশে নিয়েও লাভ হয়নি। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। জাভিয়ার বার্টলেটের গুড লেংথের বল সামনের পায়ে খেলতে গিয়ে কট এন্ড বোল্ড হন এই ওপেনার। দুই বল খেলে রানের খাতা না খুলেই বিদায় নেন তিনি। পরের বলে ফিরে যেতে পারতেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বাঁহাতি এই ব্যাটার।

এরপর শান্তকে নিয়ে ইনিংস টেনেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। এই দুজনের ব্যাটেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায়। ১০ ওভারে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৫৪ রান তুলে নেয়। শুরু থেকে দারুণ খেলছিলেন সৌম্য। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রানও তুলছিলেন। তবে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিতে পারেননি তিনি। ৪৭ বলে ৪২ রান করে আউট হন বাংলাদেশের ওপেনার।

এর ফলে দ্বিতীয় উইকেটে শান্তর সঙ্গে তার ৮৬ রানের জুটি ভাঙে। এরপর লিটনকে নিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০০ রানে নিয়ে যান শান্ত। এরপর শান্তও ফিরেছেন হাফ সেঞ্চুরির আগে তাকে আউট করেন মেরিডিথ। শান্ত ৪১ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন। যদিও শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে শান্তকে আউট করে অজিরা।

ব্যাট হাতে সাবলীল লিটন দাসও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তিনি ২১ রানের বেশি করতে পারেননি। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। তিনি ১৪ বলে ১৫ রান করেন। এরপর বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছেন তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের ব্যাটে দারুণ নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। মিরাজ ২২ ও হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ৪০ রানে।

বৃষ্টির কারণে ইনিংসের শেষদিকে আগেভাগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। তারা ৪২ ওভারে ১৮৭ রান তুললেও। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪২ ওভারে ১৯২। আগের ম্যাচে টসে জিতে আগে বোলিং নিয়ে হারের স্বাদ পেয়েছিল অজিরা। এবার আর সেই ভুল করেনি সফরকারীরা।

যদিও টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের তৃতীয় বলেই তাসকিন আহমেদের বলে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান ফিরিয়ে দেন কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে। ২৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পরও স্বস্তি মেলেনি সফরকারীদের। তানভীর ইসলাম দ্রুত আরও দুটি উইকেট তুলে নিলে ৮১ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে তারা।

সেখান থেকে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন মার্নাস লাবুশেন ও জ্যাভিয়ের বার্টলেট। সপ্তম উইকেটে তারা শতরানের জুটি গড়ে দলকে বড় বিপর্যয় থেকে বের করে আনেন। দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পর শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন তাসকিন। তিনি ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করে ফেরান।

বৃষ্টি নামার আগে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৮৭ রান। ল্যাবুশেন তখন ৫৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার ছিলেন মুস্তাফিজ। তাসকিন ৩ উইকেট নিলেও ৩৩ রান খরচ করেন তিনি। দুটি উইকেট নেন তানভির ইসলাম।

 

 

 

 

 

Share.
Exit mobile version