শরিফুল ইসলাম
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/ আজ বসন্ত…’। আবার হৃদয়ের ব্যাকুলতা নিয়ে মুগ্ধতার কবি রাজ পথিক লিখেছেন, ‘বাড়িয়েছিলাম দু’বাহু,
হাতে নিয়ে এক-গুচ্ছ গোলাপ,
তোমায় জানিয়েছিলাম নিমন্ত্রণ’।
আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন। শীতের আড়ষ্টতা ভেঙে শিমুল- পলাশ- কৃষ্ণচূড়ার ডালে ডালে ঋতুরাজ বসন্তের অনিন্দ্য প্রকাশ। কোকিলের কুহুতান, ফুলে ফুলে ভ্রমরের খেলা, গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা, ফুটন্ত আমের মুকুল, গাছের ডগায় নতুন নতুন কুড়ি, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া ও নাগলিঙ্গমের ফুটে ওঠা- এ সবই জানান দিচ্ছে ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে…’। বনফুলের পল্লবে, দখিনা বাতাসে শিহরন জাগাবার সময় এসেছে।
বসন্ত মানে প্রেম। ফাগুন এসে কানে কানে বলে এতদিন ধরে যার অপেক্ষা, সেই বসন্ত এসেছে তোমায় রাঙিয়ে দিতে। বসন্ত মানে সজীবতা, বসন্ত মানে ফুলের মতো ফুটে ওঠা। আবার বসন্তকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘বসন্তে কি কেবল ফোটা ফুলের মালা রে/দেখিস নে কি শুকনো পাতা, ঝরা ফুলের খেলা রে।’ আবার বসন্ত মানেই খুনে রাঙা দ্রোহ। বসন্তেই যে ভাষার সংগ্রাম! ভাই হারানোর শোক, সন্তানহারা মায়ের চোখের জল। বসন্তেই ২১ ফেব্রুয়ারি। সবটাই যেন বাঙালি জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
