বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পিছনে প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নির রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলকে দায়ী করছেন ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাদের অভিযোগ নির্বাচনের সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের চেয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিলেন।

ফলে বিএনপির ত্যাগি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি এবং অনেকেই নির্বাচনী কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। রোববার দুপুর সাড়ে তিনটায় ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোর্তজা এলাহী টিপু।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সাবিরা সুলতানা মুন্নি দলের নিজস্ব নেতাকর্মীদের চেয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো বক্তব্যও দিতে দেননি। এতে মাঠপর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তবুও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ধানের শীষ প্রতীককে সমর্থন দিয়ে ভোট দিয়েছেন। বিএনপির ভোট নিয়ে কোন সংশয় নেই। তবে সংগঠনের ভেতরে হতাশা তৈরি হয়েছে।

টিপু বলেন, এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থীর উচিত ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী নির্বাচনী প্রচারণা চালানো। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি আওয়ামী লীগের ভোটারদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি অবমূল্যায়নের শামিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর যশোর-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নিকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। একটি পত্রিকায় দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেয়ার প্রতিবাদে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান নিপুন। তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সাবিরা সুলতানা মুন্নি দলের জ্যেষ্ঠ ও শীর্ষ নেতাদের দায়ী করে বক্তব্য দিয়ে দলের ভিতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে যারা দোষী জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য সাবিরা সুলতানা নিজেই দায়ী। প্রার্থী ঘোষণার সময় তার যোগ্যতা ও রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। তখন প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও তা গুরুত্ব পায়নি। প্রার্থী ঘোষণার পরও তিনি নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হন। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নিজের আস্থাভাজনদের সাথে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। নির্বাচনে পরাজয় এটি বড় কারণ। নিজের ব্যর্থতার দায় এখন তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের ওপর চাপাতে চাইছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. আলিবুদ্দিনসহ দুই উপজেলার সকল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে সাবিরা সুলতানা মুন্নির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নেতারা একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্রের অংশ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট নানা অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। নির্বাচনে দফায় দফায় জামায়াতের সাথে বৈঠকসহ আর্থিক লেনদেন করেছেন এই সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্র। এ কারণেই নির্বাচনে আমার পরাজয় হয়েছে।

সাবিরা সুলতানা মুন্নির দাবি, দল আমাকে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাই বাছাই করেই মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমি নির্বাচিত হলে তাদের অনৈতিক কাজে বিঘ্নতা ঘটার সম্ভাবনা দেখেই একটি গোষ্ঠি আমার বিরোধিতা করেছে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী দোসররা তাদের হাত ধরেই এখন উন্মুক্ত চলাফেরা করছেন। নাজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে ইতিমধ্যে আইন মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায়না।

Share.
Exit mobile version