প্রবাস বাংলা ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর নতুন করে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানকে টার্গেট করেছে দখলবার ইসরাইল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তার কার্যালয়ে আক্রমণ করেছে উগ্র ইহুদিবাদী সেনারা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসহসহ ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। আর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৭৮৭ জন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হন খামেনি। তার সঙ্গে তার এক মেয়ে ও নাতনিও প্রাণ হারান। সেই হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ মার্চ মারা যান খামেনির স্ত্রী।

ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তাদের বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষাবাহিনী আইডিএফ বলেছে, ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে দফায় দফায় বোমা ফেলা হয়েছে।

বোমা আঘাত হেনেছে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পাউন্ডে। খামেনিও এই কম্পাউন্ড ব্যবহার করেছিলেন।

ইসরাইলি দখলদার সেনারা জানায়, তেহরানের যে সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে পেজেকশিয়ানের দপ্তর, খামেনির কার্যালয়ও সেখানেই ছিল।

♦ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আগাম সতর্কীকরণ রাডার এএন/এফপিএস-১৩২ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে।

তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত নজরদারি সক্ষম এ রাডারটি কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে স্থাপিত এ রাডার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

কাতারের কিছু কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

♦ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন স্থাপনা ও সামরিক বাহিনী লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে আল-জাজিরা। ইরানে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠী পতনই এবারের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সব স্বার্থ এখন ইরানের হামলার বৈধ লক্ষ্যে পরিণত হবে। আঞ্চলিক এই সংঘাতে প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট জানতে ঢাকা পোস্টের সঙ্গে থাকুন

♦ ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত চার দিন ধরে দেশটিতে চলা দফায় দফায় হামলায় আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৭৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।

তবে ইরানে চলমান সংঘাতে হতাহতের বিষয়ে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেয়া তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ইরানে নিয়োজিত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন দলের মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলেছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশিবার হামলা চালানো হয়েছে।

Share.
Exit mobile version