বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ওপর বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং বিতর্কিত চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর শহরের আরএন রোডে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ যশোর শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ফোরামের যশোর শাখার আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান রতনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম শিহাবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন সাধারণ গ্রাহক মানসুরা আক্তার ইতি, ফারুক হোসেন, ড. মাহবুবুর রহমান, মাইনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করা হলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। বরং গত ২৪ মার্চ কর্মরত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ওবায়দুর রহমানকে পদচ্যুত করে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা এ নিয়োগকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

বক্তারা দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে এবং মতিঝিলে গ্রাহকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তারা বলেন, দেশের প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের আস্থা ও আমানতের সঙ্গে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলা মেনে নেয়া হবে না।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকটি দখলের যে অভিযোগ উঠেছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেয়া হবে না। কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আমানতে গড়ে ওঠা ব্যাংকটিকে রক্ষায় গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন বলে তারা উল্লেখ করেন।

নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের সমালোচনা করে বক্তারা তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গ্রাহকদের আস্থার প্রতি অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, গ্রাহকদের ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং ইসলামী ব্যাংকের স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখার দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

Share.
Exit mobile version