কাজী নূর
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জমে ওঠেনি যশোরের নিত্যপণ্যের বাজার। দোকানিরা গ্রীষ্মকালীন নানা ধরনের সবজি ও মাছের পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতার দেখা মিলছে কম। এতে হতাশায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে গরু, খাসির মাংস ও ডিমের দাম স্থিতিশীল থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সব ধরনের মুরগির দাম।

শুক্রবার শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার ও পুরাতন কসবা চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মাংস ও মুরগির বাজার

বড়বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুরগির বাজারে দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি—ব্রয়লার ২১০ টাকা, সোনালি ৩৭০ টাকা ও লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজি।

বিসমিল্লাহ ব্রয়লার হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. অন্তর বলেন, “মুরগির দাম এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যা ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এতে ক্রেতা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি আমাদেরও লোকসান গুনতে হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, যশোরে স্থানীয় খামারে মুরগির ঘাটতি রয়েছে। মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে মুরগি এনে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে সামনে দাম আরও ১০-১৫ টাকা বাড়তে পারে।

ক্রেতা মোল্লা শহিদুল ইসলাম বলেন, “মুরগির দাম এত বেশি যে হিসেব করে দেখলাম গরুর মাংস কেনাই ভালো। তাই ৮০০ টাকা দিয়ে গরুর মাংস কিনেছি।”

সবজির বাজারে স্থিতিশীলতা, ক্রেতা কম

সবজির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। কাঁচা কলা ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৩-৪০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ আকারভেদে ৩০-৫০ টাকা পিস।

সবজি বিক্রেতা কৃষ্ণ দাস বলেন, “১৫ ধরনের সবজি নিয়ে বসে থাকলেও বিক্রি নেই। দৈনিক ভাড়া-খাজনা তো চলছেই, বিক্রি না হলে আমাদের ঘাটতি বাড়ছে।”

মাছের বাজারে স্বাভাবিক দাম, বিক্রি কম

মাছের বাজারে দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতা কম। রুই ৩৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, নাইলোটিকা ১৬০ টাকা, পাবদা ৩২০-৩৫০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৯৫০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা রাজু বিশ্বাস বলেন, “ঈদের পর বাজার নরম। দরদাম করলে আরও কমে মাছ দেওয়া যাচ্ছে।”

ইলিশের ক্ষেত্রে ৫০০-৬০০ গ্রাম সাইজের মাছ ১৪০০-১৬০০ টাকা এবং ছোট সাইজ ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ছোট ইলিশের চাহিদা বেশি।

মুদিপণ্যে তেলের সরবরাহ সংকটের শঙ্কা

মুদিপণ্যের বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা, সরিষার তেল ২৩0 টাকা, পাম তেল ১৮০ টাকা, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ টাকা, ডাল ৯০-১৭০ টাকা, চিনি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, বড় কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত হতে পারে।

চালের বাজারে স্বস্তি

চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট ৬০-৬৫ টাকা, বাসমতি ৮০-৮৫ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫ টাকা এবং স্বর্ণা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নিউ মা কালী ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, “সামনে নতুন ধান উঠবে, তাই চালের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।”


সার্বিক চিত্র:
ঈদের পর বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। সবকিছুর দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও মুরগির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। সামনে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে বাজারের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তিত হতে পারে।

Share.
Exit mobile version