বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক যশোর-খুলনা, যশোর-নড়াইল ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। ঘরমুখো মানুষের অতিরিক্ত যাত্রা, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।

বিশেষ করে যশোর-নড়াইল সড়কের কয়েকটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ ধীরগতিতে চলায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় গর্তের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
এদিকে, যশোর-খুলনা মহাসড়কের দুভোর্গ বেড়েছে। রাস্তার মধ্যে গর্ত, পিচ উঠে ইট দেখা যাচ্ছে। এতে ব্যস্ত এ সড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা হচ্ছে। ঈদযাত্রা ঘনিয়ে আসায় এই জট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যশোর থেকে খুলনা পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

একই অবস্থা দেখা গেছে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে। মহাসড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক স্থানে ইট বিছিয়ে কোনোভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ধীরগতির কাজের কারণে সড়কের বড় অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য এই সড়ক কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কটি খুলনা অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। প্রতিদিন এ পথে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চলমান উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও উঠে গেছে পিচ, আবার কোথাও রাস্তার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঈদযাত্রায় এই সড়ক বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে ট্রাকচালক আলিফ হোসেন বলেন, ‘যশোরের তিনটি মহাসড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। তবুও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো মালামাল পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

ঝিনাইদহ বারোবাজারের বাসিন্দা আলীম শেখ বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাক উল্টে যাচ্ছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে সড়ক আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’

শামীম, রফিক ও কাজল নামে তিন যাত্রী জানান, ঈদ সামনে রেখে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় অতিরিক্ত গতিতে যান চলাচল এবং তিন চাকার যানবাহনের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলছেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা না হলে ঈদ যাত্রায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
তবে যশোর-বেনাপোল, যশোর-সাতক্ষীরা, যশোর-মাগুরা ও যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বড় ধরনের খানাখন্দ বা মেরামতকাজ না থাকায় ঈদযাত্রায় এসব সড়কে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক যশোর-খুলনা, যশোর-নড়াইল ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের অবস্থা নাজুক। যতটুকু সম্ভব আমরা মেরামতে চেষ্টা করছি।

Share.
Exit mobile version