বাংলার ভোর প্রতিবেদক
উদ্ভাবননির্ভর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। শনিবার সকালে যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপি এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

ফিতা কেটে এবং বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার সূচনা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞানমনস্কতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা, গবেষণার আগ্রহ এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে দেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর মডেল ও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার প্রদর্শন করছে। প্রায় ৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে মেলা প্রাঙ্গণ এখন নবীন বিজ্ঞানীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

এবারের মেলায় প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে যশোর পলিটেকনিকের ‘এয়ার পিউরিফাই কনসান্ট ব্লক’ এবং মির্জাপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ‘দূষিত বায়ুকে বিশুদ্ধ বায়ুতে রূপান্তর’ প্রকল্প দুটি। পরিবেশ সুরক্ষায় রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপস্থাপন করেছে ‘বর্জ্য হতে ভবিষ্যৎ শক্তি’ এবং বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ডিগ্রি কলেজ দেখিয়েছে তাদের ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ মডেল। একইভাবে বুরুজবাগান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় তাদের ‘সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক বর্জ্য অপসারণের ধারণা তুলে ধরেছে।

প্রযুক্তির আধুনিকায়নে যশোর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ‘স্মার্ট গ্রীন ফার্মিং প্রোজেক্ট’ এবং ধান্যখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ‘ডিজিটাল হোম’ প্রকল্প দর্শনার্থীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন ধারণা নিয়ে এসেছে চৌগাছা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ‘বাংলাদেশ ব্যালিস্টিক মিসাইলবাহী গাড়ি’ এবং পাইরাহাট ইউনাইটেড কলেজের ‘রাডার টেকনোলজি’। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মনিরামপুর সরকারি কলেজের ‘সেন্সর ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্প’ ছিল অন্যতম আকর্ষণ।

মেলায় যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রদর্শন করেছে ‘দ্য সলিউশন ইন বাংলাদেশ রিসেন্ট প্রবলেম’ শীর্ষক প্রজেক্ট। ক্যান্টনমেন্ট কলেজ যশোরের ‘প্রোজেক্ট ইউটোপিয়া নেস্ট’ বর্জ্য নিরোধে নতুন দিশা দেখিয়েছে। শার্শা সরকারি মহিলা কলেজ তাদের স্টলে সাজিয়েছে ‘স্মার্ট সিটি ও ট্রান্সমিশন ডিটেক্টর’। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যশোর জিলা স্কুলের ‘ফিউচার সাইন্টিস্ট’, আকিজ আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ‘প্রাকটিকস গার্ড’ এবং যশোর সরকারি মহিলা কলেজের ‘ভবিষ্যৎ শক্তি’ শীর্ষক প্রকল্পগুলো মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

এছাড়াও মেলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে অভয়নগর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মনিরামপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চাড়াভিটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিকরগাছা বদরুদ্দীন মুসলিম হাইস্কুল এবং নওয়াপাড়া সরকারি কলেজসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান।

মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করতে মূল প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই মেলার শেষ দিনে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। নবীন এই বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ভবিষ্যতে একটি স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

Share.
Exit mobile version