বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ‘ঈদ-এ-গ্বাদীর’। শুক্রবার যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে ইনকিলাব-এ-মাহদী মিশনের উদ্যোগে “ঈদ গাদির” শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সা.) কর্তৃক হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-কে তার স্থলাভিষিক্ত ও মাওলা হিসেবে ঘোষণার ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
ইনকিলাব-এ-মাহদী মিশনের পরিচালক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মুস্তফা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ শাখার পরিচালক মাওলানা শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী।
বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র খুলনার অধ্যক্ষ মাওলানা ইব্রাহীম খলীল রাজাভী, মুস্তফা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ শাখার শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান মাওলানা আলী নেওয়াজ খান, সম্মিলিত ওলামা একরামের সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম ফাইজুল্লাহ, আল হাদী আল নজীব ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা শামীম মির্জা এবং স্বর্ণপদক প্রাপ্ত মৎস্য গবেষক মোস্তফা খান ফিরোজ।
এ ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন ইমামবাড়ী কার্যকরী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এহতেশাম উল আলম প্রতীক, পেশ ইমাম ইকবাল হুসাইন এবং উপদেষ্টা আতাহার হুসাইন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাহিদুল ইসলাম বাবু।
সেমিনারে বক্তাগণ তাদের আলোচনায় গ্বাদীর দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, তাৎপর্য এবং ইসলামের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, গ্বাদীর ইসলামের ইতিহাসের একটি মাইলফলক, যা মুসলিম উম্মাহকে সঠিক পথ ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা দেয়।
মানবিক সহায়তা ও তাবারুক বিতরণ সেমিনারটি কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এতে প্রকাশ পেয়েছে মানবতার সেবার এক অনন্য নিদর্শন। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ৫ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সমাজের ১০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (অন্ধ) ব্যক্তির মাঝে ‘সাদা ছড়ি’ বিতরণ করা হয়। সবশেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তাবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
