বাংলার ভোর প্রতিবেদক
পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের মতো ছেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে শান্তি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক কলেজ শিক্ষক দীনবন্ধু মিত্র। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম এমন একটা সমাজ নির্মাণ করেছিলেন যেখানে আমরা হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতির অটুট বন্ধনে একত্রে মিলেমিশে বসবাস করেছিলাম। আমি আগামী দিনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে সম্প্রীতিময় সমাজ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছি।
বুধবার সকলে কচুয়া ইউনিয়নের কৈখালী মোড়ে অনুষ্ঠিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী পথসভায় সাবেক কলেজ শিক্ষক দীনবন্ধু মিত্র এ কথা বলেন।
দিনব্যাপি ইউনিয়নের পথে প্রান্তে ধানের শীষের প্রার্থী প্রচারণা চালান। ইউনিয়নের সকল ধর্মের নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সকলের তাকেই ঘরের সন্তানের মতো ফুল ছিটিয়ে বরণ করেন।
শিক্ষক দীনবন্ধু মিত্র আরও বলেন, আমি যশোর কলেজের শিক্ষক ছিলাম। আমার কলেজ টি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মা অধ্যাপক নার্গিস বেগম প্রতিষ্ঠা করেন। আমার এলাকায় কোন পোস্ট অফিস ছিল না। তরিকুল ইসলাম পোস্ট অফিস স্থাপনের মাধ্যমে এলাকার পরিচিত দেন। তিনি আমাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছিলেন। কৈখালী ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে তিনি পার্শ্ববর্তী বাঘারপাড়া উপজেলার দেবী নগরের সাথে আমার এলাকার সংযোগ স্থাপন করেন। ঠিক একইভাবে মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায় তিনটি ব্রিজ করেন। আমি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন চাই।
হোগলাডাঙ্গায় একটি পথসভায় শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, আমাদের এই গ্রামের শাহ বাখের উল্লাহ নামে একটি দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। যেটি এই ইউনিয়নের একমাত্র মাদ্রাসা। সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ২০০৩ সালে মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষ ভবন নির্মাণ করেন। এরপর থেকে মাদ্রাসার কোন নতুন ভবন তৈরি কিংবা পুরাতন ভবনের সংস্কার হয়নি। অবহেলিত মাদ্রাসটি দিন দিন শিক্ষার পরিবেশ হারাচ্ছে। আমি আশা করবো অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আগামী দিনে সুযোপ পেলে মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজ করবেন।
এ সময় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কলেজ শিক্ষক দীনবন্ধু মিত্র এবং আশিকুর রহমানের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, মানুষের জন্য করার জন্য ক্ষমতা যথেষ্ঠ নয়। মানুষের জন্য কাজ করার সদ ইচ্ছায় যথেষ্ঠ। মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা ছিল বলে দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় না থেকেও জনগণের পাশে ছিলাম। তাদের সকল সংকটে যেমন পাশে ছিলাম, ঠিক তেমনই তাদের সকল সুখ দুঃখের সাথী হয়েছি। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর প্রশসানিক শূন্যতার পরও ঢাল তলোয়ার ছাড়াই মানুষের জান মাল, বাড়ি ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় উপসানালয় সুরক্ষা দিয়েছি। রাজনীতি মানুষকে বৃহত্তর কাজের সুযোগ করে দেয়। নিজের সুখ স্বাচ্ছান্দ্য পরিত্যাগ করে কাটা বিছানো পথ পাড়ি দিয়ে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আগামী দিনেও করে যাবো। এটি আমার পারিবারিক এবং রাজনৈতিক দলের শিক্ষা।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্ম কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ রেখা টানার ইতিহাস বিএনপির নেই। আমরা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। নবী করিম হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন সকল ধর্মের মানুষ সম্মান এবং মর্যাদার সাথে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। আমরা হৃদয়ে সেই কথাটি ধারণ করি এবং বিশ্বাস করি। আজকে যে রাজনৈতিক দল ধর্ম বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে মানুষে মানুষে বিভক্ত করছে, এরা নিজ ধর্মের চেতনা ধারণ করে না। তারা ধর্ম থেকে যোজন যোজন দূরে। কোন ধর্ম মানুষে মানুষে বিভক্তির কথা বলে না। প্রতিটি ধর্ম সাম্য ও সম্প্রীতির কথা বলে। একাত্তরে ওই রাজনৈতিক দলের ভূমিকার কারণে আমাদের লাখ লাখ মা বোনের ইজ্জত সম্ভ্রম হারিয়েছিল। আজকে সেই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত অশ্লীল ভাষা মন্তব্য করেছে। মানুষকে শাসন ও শোষণ করতে চায় বলে মানুষের মধ্যে বিভক্তি করছে। তারা নারীদের ঘরের মধ্যে আটকে উন্নয়নের গাল গল্প দিচ্ছে। এরা জনগণের সামনে মিথ্যাচার করছে।
তিনি আগামী দিনে সুযোগ পেলে হোগলাডাঙ্গার শাহ বাখের উল্লাহ দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নসহ মাদ্রাসাটি আলিম শ্রেণীতে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে ঘোপ গ্রামের সাথে পার্শ্ববর্তী বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ভৈরব নদে ব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধানের শীষ উন্নয়নের প্রতীক। ধানের শীষ সামাজিক নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রতীক। অতীতে আমরা প্রমাণ করেছি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ধানের শীষে আস্থা রাখলে আবারও প্রমাণ করবো।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেয়াপাড়া স্কুল মাঠ বাজার, ঘোপ, ভগবতী তলা, নিমতলী, মুনসেফপুর, সাতঘরিয়াপাড়া, জরিনা বাজার, কচুয়া, পশ্চিম আবাদ কচুয়া গ্রামে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি আগামী দিনে তাদের জন্য বিএনপির কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গণসংযোগ কালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মশিয়ার রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন প্রমুখ।
