শরিফুল ইসলাম
খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হলো চুনখোলা মসজিদ। প্রাচীন এই মসজিদটি ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও স্থাপত্যশৈলীর জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষক ও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে।
বাগেরহাটের চুনখোলা গ্রামে ১৫শ শতকে নির্মিত এই মসজিদটি সুলতানি আমলের স্থাপত্যের একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। ধারণা করা হয়, এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও নগরায়নের সময় সুফি সাধক খান জাহান আলী–এর সময়কালেই মসজিদটি নির্মিত হয়। তবে স্থাপত্যের দিক থেকে এটি তাঁর নির্মিত অন্যান্য স্থাপনার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহন করে।
মসজিদটির মূল দালানটি প্রায় ৭.৭ বর্গমিটার চৌকোণা আকৃতির এবং দেয়ালগুলো প্রায় ২.২৪ মিটার পুরু। শক্ত ইটের তৈরি এই দেয়ালগুলো সে সময়কার নির্মাণশৈলীর দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের পরিচয় দেয়। মসজিদের পূর্বদিকে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার রয়েছে, আর উত্তর ও দক্ষিণ দিকে একটি করে দরজা রয়েছে, যা মসজিদে প্রবেশের সুবিধা তৈরি করেছে।
মসজিদের ভেতরে তিনটি মিহরাব রয়েছে, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় মিহরাবটি সবচেয়ে বড় ও দৃষ্টিনন্দন। পুরো স্থাপনাটির উপর একটি অর্ধগম্বুজ রয়েছে, যা মসজিদের স্থাপত্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য যোগ করেছে।
সময়ের প্রবাহে মসজিদটির ইটের দেয়াল ও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরে ১৯৮০ সালে ইউনিসকো–এর সহায়তায় মসজিদটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি নতুনভাবে সংরক্ষিত হয় এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
বর্তমানে চুনখোলা মসজিদ বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয় হিসেবে এই মসজিদ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
