কপিলমুনি সংবাদদাতা
কপিলমুনিতে টিসিবির ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২৫ কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কপিলমুনির কথিত ভাই ভাই মুদি স্টোরের স্বত্তাধিকারী সামিউল ইসলামকে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, টিসিবির গত বছরের ২৭ জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে আবেদনের প্রেক্ষিতে পাইকগাছার ৭টি ডিলার নিয়োগে উপজেলার কপিলমুনিতে দু’টি ডিলার যথাক্রমে আফাজ স্টোরের আব্দুর রহমান ও ভাই ভাই মুদি স্টোরের সামিউল ইসলামকে নিয়োগ দেয়া হয়।
এদিকে পাইকগাছার সাবেক এক ডিলার মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বজলু জানান, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ গত ৯/১২/২৫ তারিখের ২৬.০৫.০০০০.০২৩.১১.০৯৮.২৫.১০০৮ নং স্মারকের ডিলারশিপ চুক্তি নবায়ন না করা প্রসঙ্গে এক পত্রে জানায়, টিসিবির ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২৫ এর নির্দেশনার আলোকে ডিলার নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পর্যাপ্ত আসন ফাঁকা না থাকায় ১৭৮ জন ডিলারের ডিলারশিপ চুক্তি নবায়ন করা হলোনা। যার মধ্যে ১৪৮নং ক্রমিকে তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের নাম রয়েছে।
কেননা, টিসিবির ডিলার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পাইকগাছার কপিলমুনিতে উপকারভোগীর কার্ড সংখ্যার স্থলে ২১৬২, বিদ্যমান ডিলার সংখ্যা ১ ও নিয়োগযোগ্য ডিলার সংখ্যার স্থলে ১ লেখা থাকে। নীতিমালা অনুযায়ী ১৫০০ এর অধিক উপকারভোগী থাকলে ২ জন ডিলার থাকা অবশ্যক বলে উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ তিনি বিদ্যমান থাকাবস্থায় তাকে বাদ দিয়ে কপিলমুনিতে ২ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নীতিমালা বহির্ভুত। এ অবস্থায় তদন্তপূর্বক বিষয়টির পুনর্বিবেচনারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে নতুন ডিলার ভাই ভাই মুদি দোকানের মালিক সামিউল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল বন্ধ থাকায় তার প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কপিলমুনি ইউনিয়নের কোথাও ভাই ভাই মুদি দোকান নামে কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। তবে পার্শ্ববর্তী হরিঢালী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মোড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানের উপর গত ৭ মার্চ সকালে ভাই ভাই মুদি স্টোরের নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলানো দেখতে পাওয়া যায়। যদিও ওইদিন সন্ধ্যার পর থেকে সেখানে আর সাইনবোর্ডটি দেখা যায়নি।
