কাজী নূর
রমজানে যশোর বাজারে লেবু, শসা, বেগুনের দাম কিছুটা কমেছে। একদিন আগেও যে বেগুনের দাম ছিল ৮০ টাকা কেজি আজকের (শুক্রবার) বাজারে সেটি ৬০ টাকায় নেমে এসেছে।
সেই সাথে কমেছে লেবুর দাম। তবে বৃদ্ধি পেয়েছে শসার দাম।
শুক্রবার সকালে যশোর শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজার ঘুরে এসব তথ্য মিলেছে। তবে এ দুই বাজারে পণ্যের দামে তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে।
বড়বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বেগুন সর্বোচ্চ ৬০ টাকা, শসা ১২০ টাকা কেজি দরে ও লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে একই মানের বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় ও শসা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড বাজারে।
এছাড়া বড়বাজার কালীবাড়ি রোড ও নিচের বাজারে মানভেদে ধনে পাতা কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, হলুদ রঙের ফুলকপি ৫০ টাকা, ব্রকোলি ১১০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, মিচুড়ি ৪০ টাকা, মটরসুটি ৪০ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, সবুজ শাক ৩০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, বিটরুট ৩০ টাকা, শিম ৩০ টাকা, পেঁয়াজ কালি ৩০ টাকা, শিমের বিজ ৬০ টাকা, কুমড়ো ৪০ টাকা, মানকচু ৫০ টাকা, কুশি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ১৮০ টাকা, বরবটি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ক্যাপসিকাম ৭০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আকারভেদে লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ২০ টাকা পিস হিসেবে বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা নাসির উদ্দীন বাংলার ভোরকে জানান, কাঁচা মালের বাজার রোজ ওঠানামা করে। অনেক সময় দেখা যায়, ক্রেতা তার চাহিদার তুলনায় বেশি কিনলে বাজারে টান পড়ে। তখন দাম বৃদ্ধি পায়। যেমন দেখেন, আজ লেবু বিক্রি হচ্ছে কম। আবার দামও কম। ৬০-৮০ টাকা হালিতে ভালো মানের লেবু পাবেন। আবার বেগুনের দাম গতকালের চেয়ে কম। আপনি বাজার ঘুরে দেখেন এর সত্যতা পাবেন।
শহরের ষষ্ঠীতলা পাড়ার বাসিন্দা ইশতিয়াক কামরান আলী বাংলার ভোরকে জানান, সবজির দাম ঠিক আছে। তবে লেবু এবং বেগুনের দাম বেশি। যা গত ৪/৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় এ কারবার যারা করছে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক মহান রবের কাছে এটাই প্রত্যাশা।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা।
মুরগির দাম এবং বাজার সম্পর্কে বিসমিল্লাহ ব্রয়লার হাউজের মালিক নুরুজ্জামান জনি জানান, বর্তমানে যে দামে মুরগি বিক্রি করছি এতে করে আমাদের লাভ অনেক কম হচ্ছে। তবে সবচে বেশি লসে আছে খামারি। যা আগামী দিনের জন্য হুমকি। পনেরো রমজানের পর মুরগির দাম বৃদ্ধির আশংকা করেন এই বেক্রেতা।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে দুই থেকে তিন কেজি সাইজের রুই কেজি প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আড়াই তিন কেজি সাইজের কাতলা ৩৫০ টাকা, ফলই ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, বেলে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বাটা ১২০ থেকে ৩৫০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, ভেটকি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, কালবাউশ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাঁকলে ৫০০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১২০০ টাকা, পুঁটি ৩০০ টাকা, কৈ ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা, মায়া ৩০০ টাকা, বাইন ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, শোল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, নাইলোটিকা ১৫০ থেকে ২২০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবারের বাজার হিসেবে আজ বিক্রি কম। আবার মাছের সরবরাহ ভালো। দামও কিছুটা কম রয়েছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে মিনিকেট চাল কেজি প্রতি ৬৪ থেকে ৭৬ টাকা, বাসমতী চাল ৮০ থেকে ৮৪ টাকা, স্বর্ণা ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, আটাশ ৫৬ থেকে ৬০ টাকা, কাজললতা ৫৬ থেকে ৬৫ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা বিক্রি হয়েছে।
চাল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আলম ট্রেডার্সের মালিক বদরুল আলম জানান, চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। দাম বৃদ্ধির কোন আশংকা নেই।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা কেজি, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০ টাকা লিটার, সরিষার তেল ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি, পাম তেল ১৮০ টাকা কেজি, আটা ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ টাকা, মোটা মসুরি ডাল ৯০, চিকন মসুরি ১৬০ টাকা, মুগ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, সাদা চিনি ১০০ টাকা, লাল চিনি ১২০ টাকা, আলু ১৬ থেকে ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
এছাড়া লাল ডিম ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, সাদা ডিম ৩২ থেকে ৩৬ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০ টাকা ও কোয়েল ১১ টাকা হালি বিক্রি হয়েছে।
