বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার ধর্মতলা খোলাডাঙ্গা গ্রামের গাজীপাড়া এলাকায় ঈদের দিন পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বিস্ফোরিত বোমাটি আগের দিন স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নিক্ষেপ করা হলেও সেটি অবিস্ফেরিত অবস্থায় পড়ে ছিলো। ঈদের দিনে শিশুরা সেটি নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণের শিকার হয়।
আহত দুই শিশু হলো খোলাডাঙ্গা কাজীপাড়ার রাজিব খানের ছেলে রেজওয়ান (৭) এবং একই এলাকার ইয়াসিনের ছেলে ইসমাইল ওরফে সিয়াম (৪)। ঘটনাস্থলে আরও এক শিশু সামান্য আহত হলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। রবিবার দুপুরে তারা সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের প্রাথমিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ শেষে শারীরিক অবস্থা সিথিল হওয়ায় আজ তাদের রিলিজ দেওয়া হয়েছে। নিরিক্ষা শেষে
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৩টার দিকের ঘটনা।
আহত শিশুদের স্বজনরা জানান, ঈদের দিন বিকেলে ৩ টার দিকে তিন শিশু পুকুরপাড়ে খেলা করছিল। খেলার সময় তারা পুকুরপাড়ে পড়ে থাকা কৌটাসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পায়। অবুঝ শিশুরা সেটিকে লাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিশু আহত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন শিশু শিশুদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাহুল দেব ঘোষ তাদের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাহুল দেব ঘোষ জানান, শিশু দুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থা হাসপাতালে আনা হয়। বিশেষ করে রেজওয়ানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে ঈদের দিন হওয়ায় তারা হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভার্তি থাকে।
অপর আরেক শিশু সিয়ামকেও শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়। এসময় আহত অন্য শিশুর আঘাত তুলনামূলক কম হওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয়নি।
এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন এলাকায় একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাং এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরে বোমাটি ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিলো। ঈদের দিন শিশুরা খেলতে গিয়ে সেটি লাঠি দিয়ে নাড়াচাড়া করলে বিস্ফোড়ণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দাবি করছেন, বেপরোয়া এসব গ্যাং ছিন্তাই চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে ল্পিত থাকে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তারা।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, বিস্ফোরকটি কোথা থেকে এলো এবং কারা নিক্ষেপ করেছিল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
