শরিফুল ইসলাম
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন হলো ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। জেলার ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি মুঘল আমলের স্থাপত্যশৈলী ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য সাক্ষী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদটি কুষ্টিয়া সদর উপজেলা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত। শান্ত গ্রামীণ পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রাচীন মসজিদটি এলাকার মুসল্লিদের নিয়মিত ইবাদতের স্থান হওয়ার পাশাপাশি ইতিহাস ও স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল সম্রাট শাহজাহান-এর শাসনামলে ঝাউদিয়া এলাকার জমিদার শাহ সুফি আহমদ আলী (আদারী মিয়া) মসজিদটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, প্রায় চারশ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদটি তখনকার সময়ের ধর্মীয় অনুরাগ ও স্থাপত্যরুচির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও মসজিদটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদের চার কোণায় রয়েছে চারটি উঁচু মিনার। ইটের গাঁথুনি ও সূক্ষ্ম কারুকাজে মুঘল শিল্পকলার প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এছাড়া মসজিদের ভেতরে রয়েছে নান্দনিক মিহরাব ও খিলান নকশা, যা দর্শনার্থীদের সহজেই আকৃষ্ট করে।

ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে মসজিদটি বর্তমানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই স্থাপনাটি সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করে আসছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় মসজিদের কিছু অংশের জৌলুস কমে গেছে। তবুও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্য সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী এখানে আসেন এবং নামাজ আদায়ের পাশাপাশি প্রাচীন এই স্থাপনাটি ঘুরে দেখেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্থানে পরিণত হতে পারে।

Share.
Exit mobile version