কেশবপুর সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথা বলে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলে কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জনাকীর্ণ এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ আনেন পৌসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের আপন ভাই ব্যবসায়ী তাসের আলী।
সংবাদ সম্মেলনে তাসের আলী লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন গতবছরের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে হাজী জমশের খাঁন ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম-অফিসিয়াল মোতাওয়াল্লী পৌরসভার মধ্যকুল মৌজার আসাদুজ্জামান খান, ইকরামুছ সালাম খান ও পারভেজ হাসান খানের কাছ থেকে অগ্রিম জামানত দিয়ে মাসিক ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা করার লক্ষ্যে ট্রাক টার্মিনালে উত্তর পাশে ওয়াকফ এস্টেটের জমিতে ৫ বছর মেয়াদী চুক্তিতে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ শুরু করি।
প্রায় ২ মাস পর ইটের গাঁথুনীর উপর ছাউনীর কাজ আরম্ভ করলে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নোটিশের মাধ্যমে কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর মধ্যকুল গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু আমাকে ডেকে বলে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি।
মোতাওয়াল্লী সালাম ও আসলাম এখন কিছুই না। আমি মসজিদের সেক্রেটারি ও আমার ভগ্নিপতি মোজাম্মেল খান সভাপতি। এখন থেকে ভাড়ার টাকা আমাদের কাছে দিতে হবে। এরপর আমি ঘরের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ডাবলু খানের সাথে যোগাযোগ করি।
একপর্যায়ে তিনি কোরবানির ঈদের আগের শনিবার আমার কাছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে কাজ করার অনুমতির ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে ছাউনীর কাজ শুরু করার জন্যও বলেন।
কিন্তু টাকা না দিয়েই আমি কাজ শুরু করি। পরে তিনি কাজে বাঁধাসহ আমার আপন ভাই কেশবপুর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লের নাম জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে তাদের সম্মানহানী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয় ওয়াজেদ আলী খান ডাবলু উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হওয়ায় দল এবং প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের সময় তাসের আলী মোড়লের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার আপন দু’ভাই কেশবপুর পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মোড়লসহ এলাকাবাসী।
উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডবলু বলেন, টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের জমিতের ঘর নির্মাণ করা যাবে না। যে কারণে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে টাকা চাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না ।
