বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিকরা গ্রামের খাঁ পাড়া জামে মসজিদে ফজরের নামাজের পর ফ্যান চালিয়ে বসা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমান নিষেধ করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মসজিদের ভেতরেই তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এর জের ধরে দুপুরে নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় একদল লোক সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে আহাদ আলী মাস্টার, ওজিয়ার রহমান মাস্টার, আজিবার রহমান, আনিছুর রহমান, মো. শাহীন, মো. হাবিবুল্লাহ, আজহারুল ইসলাম ও বায়জিদ হোসেন আহত হন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আব্দুল কাদের চুক্তিভিত্তিক আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত থাকলেও এলাকায় নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন।

তার বিরুদ্ধে পূর্বেও আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার ভাইপো ইমরান হোসেন সংঘর্ষের সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ৮ জনকে আহত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজিবর রহমান ও শাহাদৎ হোসেন পরিবারের মধ্যে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে।

আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত আহাদ আলী মাস্টারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহাদৎ হোসেন ও আনসার সদস্য আব্দুল কাদেরকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.
Exit mobile version