কেশবপুর সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাহাপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। কেশবপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ ঘরের ভেতর খুন হয়েছেন গৌরানী রানী (৮৫)। অভিযুক্ত তারই মেয়ে দীপ্তি রানী (৫০) ওরফে সাধনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে মা-মেয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘরের ভেতরে তখন মা ও মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিল না। একপর্যায়ে মেয়ে তার মাকে আঘাত করলে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান বৃদ্ধা।
প্রতিবেশীরা জানান, গভীর রাতে কিছু অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গেলেও বিষয়টির ভয়াবহতা কেউ বুঝতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, জীবনের শেষ মুহূর্তে চরম যন্ত্রণা সহ্য করেছেন ওই বৃদ্ধা, কিন্তু অসুস্থ ও দুর্বলতার কারণে হয়তো সাহায্যের জন্য জোরে চিৎকার করতেও পারেননি।
সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘটনাস্থলে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এলাকাবাসী হতবাক-কীভাবে একটি মেয়ে তার মায়ের প্রতি এমন নির্মম হতে পারে।
খবর পেয়ে সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। এবং আটক করেন অভিযুক্তকে।
ওসি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তের মানসিক সমস্যা থাকার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত জানার জন্য ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হত্যার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গৌরানী রানী ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। তার এমন পরিণতি কাম্য ছিল না কারোরই।
সমাজের সচেতন মহল বলছে, পারিবারিক সম্পর্কে অবক্ষয় ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেয়া জরুরি। তা না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা সমাজে আরও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

Share.
Exit mobile version