কেশবপুর সংবাদদাতা
যশোরের কেশবপুর পৌরসভা এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও হরিহর নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম সংলগ্ন নদীর পাড় ধসে মুহূর্তের মধ্যে চারটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এতে দুটি পরিবার তাদের মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও মানবেতর অবস্থায় পড়েছে। ভাঙন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী আরও কয়েকটি পরিবার নিরাপদ স্থানে সরতে শুরু করেছে।
শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। তিনি দুর্গতদের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে শুকনো খাবারসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রি বিতরণ করেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় হরিহর নদ খননকাজে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী খননের পর থেকেই পাড়গুলো দুর্বল ছিল, যা সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল হোসেন ও ফারুক হোসেন দ্রুত স্থায়ী পুনর্বাসন ও নদী তীর সংরক্ষণের দাবি জানান।
ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকার রয়েছে। তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।”
এদিকে টানা বর্ষণের কারণে কেশবপুর পৌর শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও পানি জমতে শুরু করেছে। এতে নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
