আয়ুব খান কেশবপুর (পৌর) প্রতিনিধি
আধুনিকতার এ যুগে কেশবপুরে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে গরু দিয়ে ফসলি জমিতে হালচাষ। ‘তোর মায় চইছে হাল, তোর বাবায় চইছে হাল, তোর লাইগা রাইখা গেছে লাঙল আর জোয়াল’- গ্রাম্য প্রবাদ থাকলেও কেশবপুর উপজেলায় তেমন একটা চোখে পড়ে না গরু দিয়ে হাল চাষের দৃশ্য।
একটা সময় এ অঞ্চলের ফসলি মাঠে গরু দিয়ে হাল চাষের দৃশ্যে ছিল নিত্যঘটনা। সময়ের পরিক্রমায় আর আধুনিক যন্ত্রের বদৌলতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীনকাল থেকে জমি আবাদে চলে আসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য গরু-লাঙল দিয়ে হাল চাষের চিত্র।
গতকাল দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় গরু দিয়ে হাল চাষ ছাড়া ফসল আবাদের আর কোনো উপায় ছিল না। তাই প্রতিটি গৃহস্থ পরিবারে ছিল হালচাষ উপযোগী গরু, লাঙল, জোয়াল ও মই। এগুলো ছাড়া কোনো গৃহস্থ পরিবার কল্পনা করা যেত না। অনেকেই অন্যের ক্ষেতে গরু দিয়ে হালচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কৃষিতে আমূল পরিবর্তন ও আধুনিক চাষ যন্ত্রের ব্যবহার প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছার কারণে দিন দিন গৃহস্থ পরিবারেও এসেছে পরিবর্তন। এখন আর গৃহস্থ পরিবারে সেই চিত্র নেই। যার ফলে এ জনপদ থেকে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে আবহমান বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য গরু-লাঙলের হালচাষ। এর মাঝেও এদিন দেখা যায় তীব্র শীতের সকালে ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন গরু দিয়ে জমিতে মই দিচ্ছেন ধান লাগানোর জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা হয়রত আলী, ব্রহ্মকাটি গ্রামের আব্দুল হামিদ সরদার, ওমর আলী সরদার, রামচন্দ্রপুর গ্রামের ময়েজ উদ্দিন, আব্দুল সরদারসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বলেন, এক সময় এ জনপদের ফসলি মাঠের দিকে নজর পড়তে দেখা যেত গরু-লাঙল দিয়ে হাল চাষের দৃশ্য। এখন হাল চাষের জন্য মেশিন বেরিয়েছে। যাতে অল্প সময়ে বেশি জমি চাষ করা যায়। ফলে দিন দিন গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হালচাষের এ পদ্ধতি। সুজাপুর গ্রামের আয়ুব আলী,আতিয়ার রহমান বলেন, কৃষিতে সমৃদ্ধি আসায় জমি চাষে এখন কৃষকরা আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করছে। ফলে গরু দিয়ে হাল চাষের গ্রামীণ ঐতিহ্য বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মামুদা আক্তার বলেন, একটা সময় গরু-লাঙল ছাড়া জমি চাষের কথা চিন্তাই করা যেত না। ফসল ও জমির মাটির জন্য গরু দিয়ে হালচাষ উত্তম। এ পদ্ধতিতে হাল চাষের ফলে লাঙলের ফলা মাটিতে গেঁথে গিয়ে মাটিকে ওলট-পালট করে দেয়। এতে মাটির নিচের স্তরের পুষ্টিগুণ উপরে উঠে আসে এবং মাটির উপরের আগাছা ও ফসলের অবশিষ্ট নিচে চাপা পড়ে জৈব সারে পরিণত হয়। এ ছাড়া মাটিতে বায়ু চলাচলের পরিমাণ বাড়িয়ে এবং মাটির আদ্রতা ধরে রাখতেও সাহায্য করে। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষিকে যুগোপযোগী এবং লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে আমাদের যেতে হবে।
শিরোনাম:
- চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
- যশোরে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
- অভয়নগরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন
- যশোরে জনমত : বেতন বাড়ুক, দুর্নীতি না’
- সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনের প্রতিবাদে বেনাপোলে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ
- জিনিস পত্রের দাম কম চান সাধারণ ক্রেতারা
- পানি সংকটে মারা যাচ্ছে চিংড়ি ও সবজি : ক্ষতির পরিমাণ জানেন না কর্মকর্তা
- মারা গেছেন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি

