কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ডাকাতি মামলার আসামি ধরতে পুলিশি অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে গ্রামবাসী। তাদের দাবি ডাকাতি মামলায় নিরীহদের আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষীকুন্ড গ্রামের হাবিবুর নাজমুল খানসহ আরো তিনজন ২টি মোটরসাইকেলসহ গ্রামের পার্শ্ববর্তী রাস্তায় ডাকাতের কবলে পড়েন। এ সময় কালো মুখোশ পরা ডাকাতরা তাদেরকে মারধর করে নগদ ৩৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমুল খান অজ্ঞাত ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় ডাকাতির মামলা করেন। ওই মামলার ঘটনায় পুলিশ লক্ষীকুন্ড গ্রামের দুই নিরীহ গ্রামবাসীকে ধরে জেল হাজতে পাঠানোসহ নিরীহ আরো ৬/৭ জনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার সূত্র ধরে কোটচাঁদপুর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মাসুম বেল্লা লক্ষীকুন্ড গ্রামের আসাদ করিম খান (৪০) ও স্বপন খানকে (৪০) গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠান। এদিকে, নিজ বংশের দুইজনকে গ্রেফতার করায় বাদী নাজমুল খান বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। পরে বাদী নিজেই আদালতে হাজির হয়ে তাদেরকে জামিনে আনেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগ পুলিশ সন্দেহের বসে গ্রামের আরও ৬-৭ জন নিরীহ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রতিদিনই প্রায় লক্ষীকুন্ড গ্রামে আসছে। ওই গ্রামের ৭৫ বছর বয়সি তবিবুর রহমান খান বলেন, এ মামলা নিয়ে পুলিশের আচরণে আমরা হতবাক।
মামলার যিনি বাদী তিনি আমার আত্মীয় খান বংশের সদস্য। অথচ এই বংশের নিরীহ সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গ্রামে আসছে। লক্ষীকুন্ড গ্রামের হিরন খান আক্ষেপ করে বলেন, বিপুল খান আমার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। সে বছরে দুইবার গ্রামে আসে তাও আবার ঈদের সময়। অথচ পুলিশ তাকে এই মামলায় সন্দেহের তালিকায় রেখে খুঁজছে।
ওই গ্রামের হাজিরা বেগম (৫৫) বলেন, আমার ছেলে টিপু খান ট্রাকের ড্রাইভার, সে ৪/৫ দিন পর পর বাড়িতে আসে ১/২দিন বাড়িতে থেকে আবার চলে যায়। তাকেও খুঁজতে পুলিশ বাড়িতে এসেছিল। এ বিষয়ে ডাকাতি মামলার বাদী নাজমুল খান বলেন, পুলিশ যাদেরকে খুঁজছে তারা আমার বংশের লোক। তাদের আচার-আচরণ হাঁটাচলা কথা বলার ধরণ সবই আমার জানা। যারা ডাকাতি করেছিল তাদের আচরণ কথা বলার ধরন ভিন্ন। অথচ পুলিশ কেন এই নিরীহ লোকজনের হয়রানি করছে আমার বুঝে আসছে না ? এমন হবে আগে জানলে মামলা করতাম না।
এ বিষয়ে ৩১ মে রাতে গ্রামের লোকজন খান পাড়ার মাদ্রাসার সামনে একত্র হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন।
তারা বলেন, কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ নিরীহ মানুষের হয়রানি বন্ধ না করলে, তারা প্রয়োজন হলে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কাছে যাবেন।
গ্রামবাসীর অভিযোগের বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার সেকেন্ড অফিসার মাসুম বেল্লা বলেন, প্রায় কাছা কাছি স্থানের দুটি ডাকাতির বিষয় নিয়ে বিভিন্ন উপায়ে তদন্ত করেছি।
আমরা আসামি সনাক্ত করতে পেরেছি। ওই আসামিদের গ্রেফতার করাই আমাদের মূল লক্ষ্য কোন নিরীহ ব্যক্তিকে নয়।
