খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় নকশা অনুমোদন ও লিখিত ছাড়পত্র ছাড়াই একের পর এক বহুতল ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও কথিত মৌখিক অনুমতির সুযোগে এসব নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

ফলে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও ভবনগুলোর কাঠামোগত মান নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে একাধিক বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণাধীন রয়েছে। আমতলা এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ করছেন সাবেক এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান।

একইভাবে সুলতানপুর বড় বাজারে দুইটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এর মধ্যে একটির ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে, অন্যটিতে পিলার নির্মাণের কাজ চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, পলাশপোল, সুলতানপুর, মুনজিতপুর, রাজার বাগান, কাটিয়া, টাউন বাজার ও খুলনা রোড মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব স্থাপনার অধিকাংশেরই দৃশ্যমান কোনো অনুমোদনপত্র নেই, অথচ কাজ চলছে পুরোদমে।

নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, পৌর এলাকায় যে কোনো ভবন নির্মাণের আগে অনুমোদিত নকশা ও লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই ভবন নির্মাণ শুরু করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কয়েকজন ভবন মালিক দাবি করেছেন, তারা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মৌখিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সম্মতি পেয়েছেন। তবে আইন অনুযায়ী লিখিত অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ পরিচালনার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কিছু কর্মকর্তা নকশা অনুমোদনের আগেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে সুযোগ করে দিচ্ছেন। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এম.এম. নুর আহম্মদ বলেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অনিয়মের অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যথাযথ তদারকি ও আইন প্রয়োগ না হলে ভবিষ্যতে এসব ভবন বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Share.
Exit mobile version