পাইকগাছা সংবাদদাতা
পাইকগাছায় কোরবানীর মাংস বিতরণের তালিকা দেখতে চাওয়া ও মসজিদ কমিটি পুনর্গঠন নিয়ে বিতর্কের জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাড়ির বেড়া ভাংচুরসহ ঘরে আগুন দেয়ারও ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার সকালে জোয়াদ্দার পক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন।

জানা গেছে, ২৯ মে দুপুরে উপজেলার বাঁকা বাকপাড়া বায়তুন-নুর জামে মসজিদে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এর জের ধরে শনিবার বিকেলে এক পক্ষের বেড়া ভাংচুরসহ রাতে রাজমিস্ত্রীর বাঁশ-কাঁঠের ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় দু’ পক্ষের মধ্যে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে সংঘর্ষে আহত মিজানুর রহমান খাঁ মেজবা (৬০) শহিদুল মোড়ল (৫৫) পক্ষ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রতিপক্ষ হান্নান (৩৫) আলিম জোয়াদ্দার (৪০) ও মনোয়ারা খাতুন (৪৮) হাসাপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এলাকাবাসী ও রাড়ুলী পুলিশ ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাড়ুলীর বাঁকা বাকপাড়া বায়তুন-নুর জামে মসজিদে ঈদ-উল আযহার নামাজ শেষে গরু কুরবানির পর স্থানীয় মিজানুর রহমান খা ঈদগাহে পৌছে মাংস বিতরণের তালিকা দেখতে চান। তালিকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ কবির জোয়াদ্দারের সাথে মিজানুর রহমান খাঁর সাথে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে স্থানীয় মসজিদ কমিটি পুনঃগঠনের ইঙ্গিত দেন ।

এর রেশ ধরে পরের দিন শুক্রবার মসজিদে জুম্মার নামাজের আগে ইমাম আলোচনার প্রস্তাব দিলে আবুল হক ঈদগাহে মাঠের ঈদের নামাজের হিসাব দিয়ে মসজিদের কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ সময় মিজানুর খা-শহিদুল মোড়ল পক্ষ ও নুরুল হক-হান্নান জোয়াদ্দার পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে মসজিদের ভিতরে বাঁশ লাঠি-রড, হাঁতুড়ি নিয়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের মিজানুর খাঁ, হান্নান, আলিম, মনোয়ারা জোয়াদ্দার, শহিদুল, সজিব মোড়ল আহত হন। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে হান্নান ও আলীমকে খুমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ ঘটনায় শহিদুল মোড়ল পক্ষ প্রতিপক্ষ তরিকুল, রনি (পুলিশ সদস্য) গংদের দায়ি করেছেন। অন্যদিকে মনোয়ারা বেগমরা প্রতিপক্ষ শহিদুল গংদের দোষারোপ করেছেন।

এদিকে কামরুল জোয়াদ্দার অভিযোগ করেন এর রেশ ধরে শনিবার বিকেলে তৌফিক লোকজন নিয়ে তার সুপারি পাতার বেড়া ভাংচুর করে। অন্যদিকে সুজাত-ঝর্না মোড়ল দম্পত্তি জানান, শনিবার রাতে আমার রাজমিস্ত্রীর কাজে ব্যবহারের বাঁশ-কাঠের ঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন আগুনের ঘটনা টের পেয়ে দেখি জাফর, নুরুল, বেল্লালরা দৌঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের এসআই সোহেল জানান, দু’পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিবাদের জের ধরে ঈদের মাংস বিতরণ ও মসজিদের কমিটি পুনঃগঠন নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো জানান, এ মুহূর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ ঘটনায় দু’ পক্ষই থানায় পাল্টা-পাল্টি এজাহার দিলেও এক পক্ষের মামলা রেকর্ড হয়েছে। যার নং-২০।

Share.
Exit mobile version